দিনে ২ বার প্লাবিত হচ্ছে বরগুনার নিম্নাঞ্চল

টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে দিনে দুইবার প্লাবিত হচ্ছে বরগুনার নিম্নাঞ্চল। জোয়ারের পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও ফসলী জমি। বরগুনার ৬ উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। দুর্ভোগে পড়ছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের বসবাসরত লোকজন।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার প্রধান তিনটি নদীতে বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বইছে জোয়ারের পানি। অমাবস্যার প্রভাবে পায়রা নদীতে বিপদ সীমার ওপর ৪২ সেন্টিমিটার, বিষখালী নদীতে বিপদ সীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং বলেশ্বর নদীতে ২৭ সেন্টিমিটার উচ্চতায় জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়েছে।

অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে প্লাবিত হয়েছে বরগুনা পৌর শহর, বেতাগী পৌর শহর ও আমতলী পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা। এ ছাড়া বরগুনা সদর উপজেলার মাঝেরচর, বড়ইতলা, পোটকাখালী, বাওয়ালকার, মাইঠা, খেজুরতলা আবাসন, ফুলতলা আবাসন। তালতলি উপজেলার নিশানবাড়িয়া, ফকির হাট, সোনাকাটা, নিদ্রাসকিনা, তেতুলবাড়িয়া, আশার চর, নলবুনিয়া, তালুকদারপাড়া, চরপাড়া, গাবতলী, মৌপাড়া, ছোটবগী। আমতলী উপজেলার ঘোপখালী, বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, পশ্চিম আমতলী, ফেরিঘাট, পুরাতন লঞ্চঘাট, আমুয়ারচর। বেতাগীর ঝোপখালী, কেওয়াবুনিয়া,কালিকাবাড়ি, বামনার, রামনা,অযোধ্য, পাথরঘাটার, রুহিতা,পদ্মা,বাদুরতলা, চরদোয়ানী, কুপধন, কাকচিড়া এলাকাসহ চর ও নিম্নাঞ্চলের অর্ধশতাধিক  গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। 

সরেজমিনে বরগুনা সদর উপজেলা ও পাথরঘাটা উপজেলার মাঝেরচর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে ফসলি জমি। অধিকাংশ এলাকাতেই পানি ঢুকে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরের বাইরে যেতে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

মাঝেরচর এলাকার স্থানীয় রশিদ মোল্লা বলেন, আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। চারপাশে কোনোরকম একটু বেড়িবাঁধ ছিল তাই এবার জোয়ারের পানিতে ভাসাইয়া নিয়ে গেছে। আমাদের চারপাশে নদী থাকলেও কোন বেড়িবাঁধ এখন আর নেই। শিগগিরই যদি সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের চারপাশে বেড়িবাঁধের ব্যবস্থা না করে তাহলে এই মাঝেরচরের মানুষ এখানেই মারা যাবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, বিভিন্ন জায়গা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে আমরা শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে বাঁধ মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে পানিবন্দী মানুষের সেবায় জেলা প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।