অপছন্দের কাজে নেই চঞ্চল চৌধুরী

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। নাটকে দীর্ঘদিন ব্যস্ততার সঙ্গে কাজ করে এলেও তার সিনেমার তালিকা যে কোনো অভিনেতার জন্য ঈর্ষণীয়। নানা ধরনের গল্পে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। দর্শকের কাছে চঞ্চল এখন এক ভরসার নাম। তাইতো তিনিও এখন কাজ নির্বাচনে অনেক বেশি সাবধানী। চঞ্চল বলেন, ‘এখন আর গড়পড়তা কাজ করতে ভালো লাগে না। তাই শুধু ব্যস্ত থাকার জন্য যে কোনো গল্পে কাজ করি না। যে কাজ আমার পছন্দ না হয় সেটি করি না। আর এখন করোনার সময় তো বাইরে বেরুতেই ভয় লাগে। জীবন বাজি রেখে কাজ করি, সেই কাজটি যদি ভালো মানের না হয় তার জন্য এত বড় রিস্ক নিয়ে কী লাভ?’

ঈদের পর মোট ৯দিন কাজ করেছেন মেধাবী এই অভিনেতা। তিন দিন করে কাজ করেছেন সাগর জাগানের ‘ভদ্রপাড়া’ ও এজাজ মুন্নার ‘শহর আলী’ ধারাবাহিক নাটকে। নাটক দুটি অনেক দিন ধরেই প্রচার হচ্ছে বাংলাভিশন ও এনটিভিতে। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বিঞ্জ-এর জন্য নির্মিত গিয়াসউদ্দিন সেলিমের নির্দেশনায় ‘যাত্রী’ নামের একটি এক ঘণ্টার ফিকশনে কাজ করেছেন তিনি। এটি করোনার সময়কার গল্প। শহরের একটি বাড়ির বিভিন্ন পেশার মানুষের করোনা মোকাবিলার গল্প। চঞ্চল বলেন, ‘কাজটি করে সত্যি আরাম লেগেছে। নায়ক-নায়িকা নির্ভর গল্প নয়। সমসাময়িক গল্পে কাজ করার মজা আলাদা। তাছাড়া গিয়াসউদ্দিন সেলিমের সঙ্গে আমার কাজের রসায়ন বরাবরই দর্শকের প্রিয়। সব মিলিয়ে কাজটি নিয়ে আমি আশাবাদী।’

করোনার মধ্যে টানা কাজ করতে পারছেন না চঞ্চল চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলে করোনার মধ্যে বাইরে গিয়ে কাজ করতেই ভয় লাগে। এজন্য কদিন কাজ করি, আবার কদিন ঘরে থাকি। যদি বুঝি কোনো সমস্যা হয়নি, তাহলে আবার সিডিউল দিই। এ মাসে আর শ্যুটিং করব না।’

ঈদে এবার খুব বেশি নাটকে কাজ করেননি এই অভিনেতা। হানিফ সংকেতের ‘মনের মতি মনের গতি’ ছাড়া বাকি চারটি সাত পর্বের ধারাবাহিক করেছেন। এরমধ্যে মাসুদ সেজানের দুটি ধারাবাহিক ‘হৈহৈরৈরৈ’ ও ‘চরিত্র প্রেমিক’, বৃন্দাবন দাসের লেখা ও শামীম জামানের পরিচালনায় ‘ট্রাম্প কার্ড’ ও ‘প্রতিবেশীকে ভালোবাসুন’। সব কটি নাটকের জন্যই বেশ ভালো দর্শক সাড়া পেয়েছেন বলে জানালেন চঞ্চল। তবে ইউটিউবে ‘মনের মতি মনের গতি’ খ- নাটকের ভিউ বেশি। এ প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরীর রয়েছে নিজস্ব ভাবনা। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের নাটকের মান খারাপ হওয়ার পেছনে এই ইউটিউব ভিউ অনেকটাই দায়ী। পরিচালক, প্রযোজক, এজেন্সি, টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আয়ের জন্য যাদের ইউটিউবে চাহিদা বেশি তাদের দিয়েই কাজ করাচ্ছেন। এভাবে ভালো মানের কাজ হওয়া কীভাবে সম্ভব?’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকাল আমাদের দেশে একজন কমপ্লিট পরিচালক, লেখক, অভিনয়শিল্পী পাওয়া খুব কঠিন। হয়তো একটি কাজের গল্প ভালো কিন্তু কাস্টিং ঠিকমতো হয়নি। আবার অনেক পরিচালক খুব ভালো নির্মাণ করেছেন, কিন্তু গল্পের জোর নেই। আমরা শিল্পী হিসেবে দর্শককে কী দেখাব, কোন মূল্যবোধ চর্চায় উৎসাহিত করব, সেটা অনেক বড় বিষয়। কিন্তু নানা ধরনের সিম্প্যাথি পাওয়ার জন্য কাজ করলে তো একটা সময় হিতে বিপরীত সবারই হবে। কিন্তু এখন এ নিয়ে কেউ ভাবছে না।’

চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘পাপ-পুণ্য’ ও মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ সিনেমা দুটি মুক্তির জন্য প্রায় প্রস্তুত। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহ কবে খুলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিকল্প পন্থায় সিনেমা দুটি দর্শকের কাছে আনা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিনেতার কাজ অভিনয় করা, ডাবিং করা। সেগুলো মন দিয়েই করেছি। এখন তা কীভাবে দর্শকের কাছে আনা হবে সেটা প্রযোজকের দায়িত্ব। এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।’