রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বহিরাগত ছিলেন! পৌষ মেলার মাঠের দেয়াল ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
ওই মন্তব্য রবীন্দ্রনাথকে অপমান করার শামিল বলেই মনে করছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে ‘মনের ব্যথা’র কথা তুলে ধরলেন বিজেপি নেতা তথা বিশ্বভারতীর সাবেক শিক্ষার্থী ড. অনুপম হাজরা।
টুইটারে অনুপম লিখেছেন, “আমি গর্ববোধ করি যে বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠানে ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা করেছি, যে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাই রবীন্দ্রনাথ আমার কাছে কোনো ব্যক্তি না, এক আবেগের নাম! সেই জন্যে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের দ্বারা বিশ্বভারতীর প্রাচীর ভেঙে দেওয়া যেমন মেনে নিতে পারিনি, ঠিক তেমনিভাবে রবীন্দ্রনাথকে ‘বহিরাগত’ বলাটা আমার কাছে শ্রুতিমধুর মনে হয়নি। আমার মতো বহু প্রাক্তনী এতে ব্যথিত। যা হোক, যতক্ষণ না বিশ্বভারতীর তাণ্ডবলীলায় জড়িত দুষ্কৃতীরা কঠোর শাস্তি পাচ্ছেন, আমার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের জন্য লড়াই চলতে থাকবে, তার জন্য যদি আমাকে অনশন আন্দোলনেও নামতে হয়, নামতে রাজি আছি!!!”
বিশ্বভারতীর ঘটনার পরপরই কলকাতা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে বিজেপির যুব মোর্চা। যার নেতৃত্বে ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ও বিজেপির যুব মোর্চা নেতা ও বোলপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ড. অনুপম হাজরা। তার আগে বিশ্বভারতীর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেন তারা।
এর আগে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বলেছিলেন, “রবীন্দ্রনাথ নিজে বহিরাগত ছিলেন। তিনি যদি এই অঞ্চল পছন্দ না করতেন, তবে বিশ্বভারতী এখানে বিকশিত হতো না। এ ছাড়া গুরুদেব, তার সহকর্মীরা, যারা বিশ্বভারতীকে জ্ঞান, সৃষ্টি এবং বিস্তারের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করেছিলেন, তারা সবাই বোলপুরের বাইরে থেকে এসেছিলেন।” এ মন্তব্য নিয়েই সমালোচনার ঝড়!