নারায়ণগঞ্জে আলোচিত স্কুলছাত্রী অপহরণ পরবর্তী নাটকীয় ঘটনায় এবার তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে তলব করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এ মামলার তদন্তকারী এসআই শামীম আল হাসানকে মামলার নথিপত্রসহ তলব করেছেন হাইকোর্ট।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত তলব করেছে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জান ও মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আবদুল হাইকে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওছার আলম এ আদেশ দেন।
হাইকোর্টে রিভিশন মামলার বাদী আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, স্কুলছাত্রী বেঁচে থাকার পরও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি আদায় সংক্রান্ত বিচারিক আদালতের সব রেকর্ড ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আইও) তলব করেছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
কার্যক্রমের বৈধতা ও যৌক্তিকতার প্রশ্ন তুলে করা আবেদনের (রিভিশন) ওপর শুনানিতে এ আদেশ দেয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার আইও শামীম আল মামুনসহ দুইজনকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন আদালত।
এদিকে কিশোরী বেঁচে থাকলেও তিন আসামি কেন ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা চেয়ে সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান ও বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আবদুল হাইকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে মামলার এজাহার ও জবানবন্দির নথিপত্রসহ সশরীরে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেন নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ৩য় আদালত।
পাশাপাশি আগামী সোমবার এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির জামিন ও রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলেও আদেশ দেন আদালত।
এ সময় আদালত বলেন, ভিকটিম যেহেতু বেঁচে আছে সুতরাং হত্যার বিষয়টি মিথ্যা। তা ছাড়া ধর্ষণের বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। আসামিরা কেন হত্যা ও ধর্ষণের জবানবন্দি দিয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে আগামী দুই কার্য দিবসের মধ্যে সদর মডেল থানার ওসি এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হলো।
আগামী সোমবার চার আসামিকে একত্রে আদালতে উপস্থিত করে রিমান্ড ও জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আসামিরা যদি আবারও জবানবন্দি দিতে চায় সেই ব্যবস্থাও করা হবে বলে আদালত জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই স্কুলছাত্রী (১৫) নিখোঁজ হয়। এক মাস পর ৬ আগস্ট একই থানায় স্কুলছাত্রীর বাবা অপহরণ মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বন্দর উপজেলার বুরুন্দী খলিলনগর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২২) ও তার বন্ধু একই এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে রকিবকে (১৯)। ওই দিনই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় দুই দিন পর গ্রেপ্তার করা হয় বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার বাসিন্দা নৌকার মাঝি খলিলকে (৩৬)।
গত ৯ আগস্ট পুলিশ জানায়, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার কথা স্বীকার করে আসামিরা ওইদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ২৩ আগস্ট দুপুরে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় জীবিত অবস্থায় ফিরে আসেন নিখোঁজ স্কুলছাত্রী।
তিনি তার পরিবারকে জানিয়েছেন, বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ইকবাল নামের এক যুবককে তিনি বিয়ে করেছেন। পরে তার কথিত স্বামী ইকবালকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে সেই অপহরণ মামলায় আসামি হিসেবে যুক্ত করে।
এ ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেয়া আসামিদের জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।