সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের দুই সদস্যকে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর পূর্বে দুপুর ১ টার দিকে তদন্ত সংস্থা র্যাব কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির করা হলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, এপিবিএন এর দুই সদস্য সিনহা হত্যার ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তারা হলো, এসআই শাহজাহান ও কনস্টেবল রাজীব।
কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ আদালতের খাস কামরায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি দেওয়ার পর তদন্তকারী সংস্থা র্যাব তাদের আদালতে সোপর্দ করে। পরে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র্যাব এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো কথা বলেনি।
এর আগে বুধবার এপিবিএনের অপর সদস্য কনস্টেবল আবদুল্লাহ একই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই তিন এপিবিএন সদস্য ৩১ জুলাই রাতে সিনহা হত্যাকাণ্ডের সময় শামলাপুর চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করেছিল।
গত ২২ আগস্ট এপিবিএনের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়ে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল র্যাব। এই তিন সদস্যকে গত ১৮ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে ৭ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
অপরদিকে ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত তদন্তকারী সংস্থা র্যাব হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।