সোনাগাজীতে ইমামের কাণ্ড

মসজিদে  ইমামতি করার আড়ালে কৌশল ছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলানো ছিল তার নেশা। একই সঙ্গে সে তিনজন মাদ্রাসা ছাত্রী ও দুইজন প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে গেছেন।ফাঁদে ফেলে কয়েক জনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন।

অবশেষে গভীর রাতে সপ্তম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে এনে কথা বলার সময় ধরা পড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন। নাম তার জাহিদ হোসেন ফাহিম। ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া নাঙ্গলমোড়া গ্রামের কমর আলী সওদাগর বাড়ির বেলায়েত হোসেনের ছেলে।

গত কয়েক বছর ধরে সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সফরপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করতেন জাহিদ। একই সঙ্গে তিনি সফরপুর দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করতেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, সফরপুর গ্রামের তুলাতুলি সংলগ্ন একটি বাড়িতে লজিং থেকে মসজিদের ইমামতি করতেন জাহিদ।প্রাইভেট পড়ানোর সময় সে তিনজন ছাত্রী ও দুই ছাত্রীর মাকে কৌশলে প্রেমে জড়াতে বাধ্য করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ কানাঘুষা থাকলেও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পরে তার মোবাইল চেক করে পাঁচজনের সঙ্গে ফেসবুক ম্যাজেঞ্জার ও ইমোতে আপত্তিকর ম্যাসেজ, ছবি, ভিডিও আদান প্রদানের প্রমাণ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের তথ্যও পাওয়া যায়।অবস্থা বেগতিক দেখে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করবে না বলে মুচলেকা প্রদান করে জাহিদ। মানসম্মানের ভয়ে ওই পরিবার তাকে পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দিলেও সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে গণরোষ এড়াতে সে পালিয়ে আত্মগোপন করে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাকে আমরা বিশ্বাস করে আশ্রয় দিয়েছি। সে আমাদের পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করবে চিন্তা করিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার ফাঁদে পড়া এক ছাত্রীর মা জানায়, সে তার মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতো। এ সুযোগে সে তার সঙ্গে কৌশলে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে ব্ল্যাকমেল করে তার কাছ থেকে কয়েক দফা টাকা আদায় করেন।সামাজিকভাবে হেনস্তার ভয়ে তিনি বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির জানায়,তাকে ঘটনাটি ভুক্তভোগী পরিবার অবহিত করেছেন। একজন ইমামের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বিব্রতকর। ভুক্তভোগী পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নিতে চায় তাদের সহায়তা করা হবে জানান চেয়ারম্যান জহির।

বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ইমাম জাহিদ হোসেন ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানায়, তাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তিনি ভিন্নভাবে ঘটনাটি জেনেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে তাদের আইনগত সহায়তা করা হবে।