কোলন ক্যানসারের চিকিৎসা

আমাদের দেহের অন্ত্র বা খাদ্যনালির দুটি অংশ ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র। ক্ষুদ্রান্ত্রের তুলনায় বৃহদন্ত্রের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বৃহদন্ত্রের ক্যানসারকে কোলন ক্যানসার বলা হয়। পশ্চিমা বিশ্বে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেশি। তবে আমাদের দেশেও ইদানীং এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সাধারণত বয়স পঞ্চাশ বছর পার হলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অবশ্য ইদানীং তরুণদের মধ্যেও আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

কোলন ক্যানসারের কারণ

কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত গরু বা খাসির মাংস খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় আঁশজাতীয় খাবারের অনুপস্থিতি এই রোগের সম্ভাবনা বাড়ায়।

অন্ত্রের পলিপ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগের কারণে কোলন ক্যানসার হতে পারে।

বংশগত বা জিনগত পরিবর্তনের কারণে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। রক্তের সম্পর্কের কোনো নিকটাত্মীয় কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে বৃহদন্ত্র ও মলাশয় ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ পরিমাণ বেড়ে যায়।

ধূমপান ও মদ্যপান।

স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজন।

ডায়াবেটিস মেলাইটাস।

লক্ষণ

তীব্র পেটব্যথা।

ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য।

পেটের ভেতর থেকে খাবার উগরে আসা বা পেটে অস্বস্তি অনুভূত হওয়া।

পায়ুপথে বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া

পায়খানার রং বদলে যাওয়া।

হঠাৎ ওজন হ্রাস।

রক্তশূন্যতা।

জন্ডিস।

বমি।

শারীরিক দুর্বলতা।

প্রতিরোধে করণীয়

        নিয়মিত ভিটামিন ও মিনারেলযুক্ত খাবার গ্রহণ করা।

        খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাবার রাখা।

        ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা।

        চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

        দৈনিক অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই বয়স চল্লিশ পার হলেই রোগ নির্ণয়ের জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত। যদি কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক স্ক্রিনিং পরীক্ষা করে পলিপ বা কোলন ক্যানসারের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে।

চিকিৎসা

টিউমারের আকার এবং লসিকা গ্রন্থি (লিম্ফ নোড) কিংবা দেহের অন্যান্য স্থানে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে কি না তার ওপর ভিত্তি করে কোলন ক্যানসারের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কোলন ক্যানসারের চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপি। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। এ কারণে রোগী ও তার পরিজনদের সচেতনতাটাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।