কোন দেশ উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখবে সেটাই মুখ্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেনের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়, ১৯৬৮ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে ১৯৮৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করার পর ১৯৯৫ সালে তিনি সেখানে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ড. দেলোয়ার একই বিষয়ে দ্বিতীয়বার স্নাতকোত্তর করেন ২০০১ সালে, জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের স্কলার হিসেবে। আর পিএইচ-ডি ডিগ্রি নেন জাপানেরই ফেরিস ইউনিভার্সিটি থেকে, ২০০৭ সালে, মনবুশো স্কলার হিসেবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব এশিয়া কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক নানা বিষয় নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের অনিন্দ্য আরিফ

দেশ রূপান্তর : চীন বাংলাদেশে ৩৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং চীনের বাজারে প্রায় ৯৭ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে এমন একটি বৃহৎ শক্তির বাংলাদেশের সঙ্গে এরকম উন্নয়ন সহযোগিতাকে কীভাবে দেখছেন?

দেলোয়ার হোসেন : বহুদিন ধরেই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা উষ্ণতাপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় আছে। ১৯৭০ এর দশকের মাঝামাঝি থেকে যখনই চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে, তখন থেকেই এ সম্পর্ক উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হয়েছে। বর্তমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে পররাষ্ট্রনীতি বজায় আছে, সেখানেও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময় আমরা দেখতে পাচ্ছি যে দেশটি শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া এবং আফ্রিকার অনেক দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে যান এবং ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বাংলাদেশ সফরে আসেন। এই দুই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। পাশাপাশি, চীনের আর্থিক সামর্থ্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলে তার অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটা ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো তৈরি করে। সেজন্য ২০১৬ সালে চীনা প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় ৩৮ বিলিয়ন, এমনকি এর চেয়েও বেশি আর্থিক বিনিয়োগের একটা প্রতিশ্রুতি দেন। দেশটির এত বড় আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে সহযোগিতার সামর্থ্য অর্জিত হয়েছে গত দুই দশকে এবং এই সময়ে আর কোনো রাষ্ট্রের এত সক্ষমতা তৈরি হয়নি। এটা একটি ইউনিক বিষয়। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতসহ অনেক দেশই এখন চীনের বিনিয়োগের প্রত্যাশা করে থাকে। বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক অবস্থা, সেই পরিপ্রেক্ষিতে চীনের এমন অর্থনৈতিক সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ একটা মোক্ষম সময়েই এসেছে বলে মন্তব্য করা যায়।

দেশ রূপান্তর : করোনা মহামারীর মধ্যেও চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশগ্রহণমূলক প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে থাকেনি। এর মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প ও কর্ণফুলী নদীর টানেল নির্মাণ। গত মে মাসে পায়রায় দেশের বৃহত্তম ২ হাজার ৬৬০ মেগাওয়াটের কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এটি চালু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সেখান থেকে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো বির্নিমাণে চীনের এ সহযোগিতা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

দেলোয়ার হোসেন : গত এক দশকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনেক বেড়েছে, উন্নয়ন অবকাঠামোর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উত্তরিত মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে গিয়েছে। উন্নয়নের একটি চাহিদা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারও এর ধারাবাহিকতায় কয়েকটি লক্ষ্য তৈরি করেছে। যেমন ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া ইত্যাদি। ইতিমধ্যে দেশ স্বল্পন্নোত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। এরকম পরিবর্তন সূচিত হওয়ার সময় চীন বড় একটা সুযোগ বাংলাদেশের জন্য তৈরি করেছে। দেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান বিষয়গুলো হলো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা। আর উন্নয়নের মাধ্যমেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর দারিদ্র্যপীড়িত দেশের পরিচয় ঘুচিয়ে বাংলাদেশ গত এক দশকে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। তাই দেশের শিল্পায়ন এবং অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা দরকার। এক্ষেত্রে চীনের সাবেক নেতা দেং জিয়াও পিং-এর একটি নীতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তিনি বলেছিলেন,‘বিড়াল সাদা না কালো, সেটা মুখ্য বিষয় নয়; বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে কি না, সেটাই মুখ্য বিষয়।’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অর্থাৎ দেশের নাম মুখ্য নয়, কোন দেশ বাংলাদেশের উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা রাখবে সেটাই প্রধান বিবেচ্য।

দেশ রূপান্তর : প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে লক্ষ করলে দেখা যায়, ২০০২ সাল থেকেই চীনের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি’, আর পাশাপাশি চীনের উৎপাদিত অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম তুলনামূলক সস্তা ও সহজ-শর্ত ঋণের আওতায় কেনার সুযোগ থাকায় কয়েক দশক ধরেই এসবের জন্য বাংলাদেশ মূলত চীনের ওপর নির্ভরশীল। ইদানীংকালে চীন থেকে আমদানিকৃত সাবমেরিন, মিসাইল ফ্রিগেট, করভেটসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বাংলাদেশের সামরিক সামর্থ্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

দেলোয়ার হোসেন : চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই ছিল। ১৯৮০ এর দশকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি ছিল। এ চুক্তির আলোকে গত চার দশক ধরে আমাদের দেশ চীন থেকে সামরিক সহযোগিতা পেয়ে আসছে। ২০০২ সালের পর এ সহযোগিতা তূলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকোনো দেশই তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য অন্যের সহায়তা নিয়ে থাকে। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তাই ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ চীন থেকে সামরিক সহযোগিতা পেয়ে আসছে। এটা ১৯৮০ এর দশকে পেয়েছে, ১৯৯০ এর দশকেও পেয়েছে, ২০০০ এর দশকে এটা জোরদার হয়েছে, ২০১০ এর দশকের শেষে উপনীত হয়ে তা অব্যাহত আছে এবং ভবিষ্যৎ দশকগুলোতেও এটা অব্যাহত থাকবে।

দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একমাত্র টানাপড়েন রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে। এ সমস্যা সমাধানে চীন মিয়ানমারকে অনেকটা প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে এসেছে, যা বাংলাদেশের জন্য ছিল খুবই অস্বস্তিকর। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা প্রত্যাশা করেন?

দেলোয়ার হোসেন : আমাদের বুঝতে হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি বড় পরিপ্রেক্ষিত রয়েছে, একটা বিশাল ক্যানভাস এ সম্পর্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে। দেশটির সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক, সামরিক, সাংস্কৃতিকসহ নানামুখী সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এরকম সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে কিংবা রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুর ক্ষেত্রে এ সম্পর্কগুলো বিবেচনা করতে হবে। এ ইস্যুটা বাংলাদেশের জন্য ওয়ান অব দ্য বার্নিং ইস্যু। এ ইস্যুটাতে চীনের সহযোগিতার অবশ্যই প্রয়োজন আছে। কিন্তু এ ইস্যুটার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, এটা একটা আন্তর্জাতিক ইস্যু। এটা সমাধান করার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। তাই এটা চীনেরও দায়িত্ব। কিন্তু শুধু বাংলাদেশের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার কারণেই চীন এ ইস্যুতে আমাদের পাশে দাঁড়াবে, এর তেমন যৌক্তিকতা নেই। কেননা এমন অনেক দেশ আছে, যাদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক না থাকলেও তারা এ ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যা একটা মানবিক বিষয়। তাই এ অঞ্চলের বড় শক্তি এবং উদীয়মান পরাশক্তি হিসেবে চীনের নৈতিক দায়িত্ব আছে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর। এটা দেশটিকে উপলব্ধি করতে হবে। আর এটা করানোর দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও রয়েছে। তাই শুধু রোহিঙ্গা ইস্যু দিয়ে চীন কিংবা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক বেঁধে ফেলা সমীচীন হবে না। এমনকি মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক শুধু রোহিঙ্গা সমস্যা দ্বারা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ভূ-কৌশলগত অনেক সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। চীন এ অঞ্চলে ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অর্থাৎ আমরা একটা স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যে প্রবেশ করেছি। বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, মিয়ানমারসহ এ অঞ্চলের অনেক দেশই এ স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যে ঢুকে গেছে। সেই হিসেবে চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কোন্নয়ন যেমন ঘটাতে হবে, তেমনি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনের সমর্থনও আদায় করতে হবে। কিন্তু সমর্থন করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। এক্ষেত্রে, কসোভো বা বসনিয়া-হারজেগোভিনা কিংবা আফ্রিকার অনেক দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেমন কোয়ালিশন কিংবা জোট গঠন করেছিল, সে রকম পন্থার দিকে যেতে হবে। মিয়ানমার যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে এবং গণহত্যা চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে এই জোটকে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশ রূপান্তর : সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে ভারতের এক ধরনের বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কোন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে কি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়তে পারে?

দেলোয়ার হোসেন : দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, এক ধরনের প্রভাব পড়েছিল। এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস আমরা যদি বিশ্লেষণ করে দেখি, তাহলে দেখা যাবে স্নায়ুযুদ্ধের সময় এরকম বাস্তবতা কয়েকটি অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলাদেশ এখন এরকম একটি বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছে। চীন-ভারতের উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের ওপর পড়ছে। এটা নেপাল থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যাচ্ছে। তাই এটা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশ কোনো পক্ষ নয়। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে, ভারতের সঙ্গেও একই ধরনের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ যে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এই দুই দেশের কারও সঙ্গে বাংলাদেশের কনফ্লিক্ট নেই। তাই চীন ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বৈরিতা বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই কিংবা বাংলাদেশের এটা নেওয়ারও সুযোগ নেই। বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে, উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখা দেশ হিসেবে আমাদের অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিল্পায়নের জন্য চীনের বিনিয়োগ যেমন দরকার, তেমনি দরকার ভারতের। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সে কোনো পক্ষের জোটের দিকে ঝুঁকে পড়ছে না। এখনকার বিশ্ব বাস্তবতায় অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এরকম ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা নেই বললেই চলে। এখন বাংলাদেশ পেশাগত জায়গা থেকে চীন এবং ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করছে। তবে, ভারত ও চীনের বৈরিতার কারণে বাংলাদেশকে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ রয়েছে। উভয়েই চাইবে বাংলাদেশকে কাছে টেনে নিতে। কিন্তু এক্ষেত্রে নিশ্চয়ই আমরা আমাদের কূটনৈতিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রদর্শন করতে পারব। এক্ষেত্রে চীন এবং ভারতের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ায়, বাংলাদেশের যে চাহিদার বিষয়ে চীনের আগ্রহ ছিল না, তারা এখন সেটা পূরণ করার আগ্রহ দেখাবে এবং অনুরূপ কাজ ভারতও করবে। এখন একটি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এসব সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।