‘চিলাহাটি-হলদীবাড়ি রেলপথ উদ্বোধন করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী’

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে চিলাহাটি-হলদীবাড়ি রুটে রেল যোগাযোগ উদ্বোধন করবেন ভারত ও বাংলাদেশের দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার বিকেলে চিলাহাটি-হলদীবাড়ি রেলপথ পরিদর্শনকালে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া সীমান্তের ৭৮২নং পিলারের কাছে এ কথা জানান বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

তিনি জানান, ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে আগামী বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি পালন করবে। ওই বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি হয়ে ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ শুরু হবে। সেদিন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী চিলাহাটি-হলদীবাড়ি রুটে রেলপথ যোগাযোগের উদ্বোধন করবেন।

কভিডের কারণে এই প্রকল্পের কাজ কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ অংশে দেড় কিলোমিটার এবং ভারত অংশের দুই শত মিটার কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে উল্লেখ করে  রেলপথ মন্ত্রী বলেন, চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ অংশের কাজ শেষ হবে। আমরা আশা করছি আগামী ডিসেম্বরের আগেই আমাদের অংশের প্রকল্পের সকল নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে উদ্বোধনের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব। ভারতের অংশে যেটুকু (দুই শত মিটার) কাজ বাকি আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসেম্বরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হবে।

মহামারি অতিক্রম করতে পারলে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেটি উদ্বোধন হবে। আর যদি সম্পূর্ণ নিরাপদ না হয়, তাহলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অবিভক্ত ভারতের রেল যোগাযোগের এটিই প্রধান পথ ছিল। পাকিস্তান ভারত ভাগ হওয়ার পরেও ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সেটি চালু ছিল। কলকাতা থেকে এ পথে ট্রেন চলাচল করত। সেই রেল যোগাযোগটি ১৯৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে দুই দেশের সম্পর্কের যে সোনালি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে তারই ফলশ্রুতিতে এই রেলপথ পুনরায় চালুর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, রেলপথ সচিব মো. সেলিম রেজা, রেলের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের মহা ব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ, জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, চিলাহাটি রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রহিম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান সিহাব প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চিলাহাটি রেল স্টেশন চত্বরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪হাজার টাকা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ রেলওয়ে চিলাহাটি থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। ২ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার লুপ লাইনসহ ৯ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ অংশে। অপর দিকে ভারতের হলদিবাড়ি রেল স্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে শেষ করেছে ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ অংশে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।