কাশ্মীর নিয়ে মোদির মহাপরিকল্পনা

১৯৪৭ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো কাশ্মীরের আবাসন আইনে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশেষজ্ঞরা মোদির এই আইন পরিবর্তনকে ইসরায়েলের ফিলিস্তিন এলাকা দখলের পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনা করছেন। ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার আইনের মাধ্যমে কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ রূপরেখা পাল্টে দিতে চাইছে বলেও তারা মনে করেন।

ব্রিটিশদের থেকে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর কাশ্মীরকে ভাগাভাগি করে নেয় ভারত ও পাকিস্তান। ভারত নিয়ন্ত্রিত অংশে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনী লড়াইয়ে ১৯৮৯ সাল থেকে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। ২০১৯ সালের আগস্টে মোদি সরকার সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে দেয়। কাশ্মীরবিষয়ক গবেষক সিরাকাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মনা ভান এএফপিকে বলেন, ‘এই (কাশ্মীর) অঞ্চলে নতুন এক কলোনি গড়ে তুলতে চাইছে ভারত সরকার।’ যদিও মোদি সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে, কাশ্মীরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে স্বায়ত্তশাসন বাতিলের ঘটনা। ভারতের যেকোনো প্রান্ত থেকে এখন মানুষ কাশ্মীরে জমি কিনতে পারবে। বিভিন্ন সময়ে কাশ্মীর থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও পরিবারগুলোও এই সুবিধা পাবে।

যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সাত বছর ধরে কাশ্মীরে কর্মরত আছেন এবং বাইরে থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীরাও কাশ্মীরের আঞ্চলিক মর্যাদা পাবে। ঐতিহাসিক সিদ্দিক ওয়াহিদের মতো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীরে বন্যার পানির মতো বাইরের মানুষ প্রবেশ করবে এই আইন পরিবর্তনের কারণে। স্থায়ী নাগরিকত্বের অধিকারের জন্য স্থানীয়দের পর্যন্ত কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘আঞ্চলিক সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ করতে হবে। আর এই সার্টিফিকেট পেতে তাদের পার্মান্যান্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেটস (পিআরসি) সংগ্রহ করতে হবে। এই সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে গিয়ে তরুণ কাশ্মীরিতে ভারতের মদদপুষ্ট রাজনৈতিক দলে নাম লেখাতে হবে এমন আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ কাশ্মীরে এরপর থেকে চাকরি পেতে হলেও আঞ্চলিক সার্টিফিকেট লাগবে।

তবে এই ঘটনায় সবাই যে নাখোশ এমনটা বলা যাবে না। অনেক কাশ্মীরি যারা নির্যাতন নিপীড়নের কারণে কাশ্মীর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তারা এই আইন পরিবর্তনে খুশি। কারণ তারা এবার তাদের ফেলে যাওয়া জমি ফেরত পাবেন। এমনই একজন বাহাদুর লাল প্রজাপতি। সাত দশক আগে কাশ্মীরের জম্মু থেকে পালিয়ে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন তিনি সপরিবারে। তার মতে, ‘৭২ বছরের সংগ্রামের ফলে আমরা ভারতের একটি অংশের নাগরিক হওয়ার অধিকার পাচ্ছি।’