পাঁচ কোম্পানিতে ভর করে চাঙ্গা পুঁজিবাজার

কয়েক দিনের বিরতির পর আবারও চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে পুঁজিবাজারে। অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে বেড়েছে সব ধরনের সূচক। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ও বাজার মূলধন বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো। গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৯ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, যার ৮৪ শতাংশ এসেছে পাঁচ কোম্পানি থেকে। সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

এদিকে সূচক ও শেয়ারের দর বাড়ার মধ্য দিয়ে ইতিবাচক সপ্তাহ পার অবশ্য সূচক বাড়লেও ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেনের পরিমাণ আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। যদিও ডিএসইর প্রধান সূচকটি এখন বছরের সর্বোচ্চ পয়েন্টে অবস্থান করছে। পুঁজিবাজারের মূলধন ও সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল বাজার মূলধনের হিসাবে শীর্ষ পাঁচ কোম্পানিÑ গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড (বিএটিবিসি), স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল) ও রেনাটা লিমিটেডের। গেল সপ্তাহে এ ৫ কোম্পানির বাজার মূলধন এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেড়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গেল সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকায়, যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৯ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা বাজার মূলধন বেড়েছে গ্রামীণফোনের। বিএটিবিসির বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এরপরে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বাজার মূলধন বেড়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের। ইউপিজিডিসিএলের বাজার মূলধন গেল সপ্তাহে ৭৬০ কোটি টাকা বেড়েছে। আর রেনাটার বাজার মূলধন বেড়েছে ১৭০ কোটি টাকা। গেল সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৭৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ৪ হাজার ৮৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ডিএসইএক্স, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৪ হাজার ৭৯৪ পয়েন্টে। ডিএসইএক্সের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ৩০ পয়েন্ট বেড়েছে ব্লু চিপ সূচক ডিএস-৩০। প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে সপ্তাহ শেষে ১ হাজার ৬৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে সূচকটি, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৬৪৭ পয়েন্টে। অন্যদিকে পাঁচ কার্যদিবসে ৩০ পয়েন্ট বেড়েছে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস। বৃহস্পতিবার ১ হাজার ১৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে সূচকটি, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে। গেল সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৮২৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ১৭৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৬২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে সপ্তাহ শেষে দর বেড়েছে ১৮১টির, কমেছে ১৫০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির বাজার দর। খাতভিত্তিক লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের ২১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ খাত। মোট লেনদেনের ১১ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিবিধ খাত। এ ছাড়া ৯ শতাংশ দখলে নিয়ে ব্যাংক, সাধারণ বীমা ও প্রকৌশল খাত তৃতীয়, ৮ শতাংশ নিয়ে বস্ত্র এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত চতুর্থ আর ৫ শতাংশ দখলে নিয়ে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত পঞ্চম অবস্থানে ছিল। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ সিকিউরিটিজ ছিল যথাক্রমে বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, গ্রামীণফোন, আইএফআইসি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বিএটিবিসি, ব্র্যাক ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিডিং করপোরেশন (বিএসসি)। সমাপনী দরের ভিত্তিতে ডিএসইতে গেল সপ্তাহে দরবৃদ্ধির শীর্ষ কোম্পানিগুলো ছিলÑ মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস, এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস, দেশ গার্মেন্টস, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান ও বিএটিবিসি।

এদিকে গেল সপ্তাহে ডিএসইতে দর কমার দিক দিয়ে শীর্ষ কোম্পানির তালিকায় ছিল প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স, ফার্স্ট ফিন্যান্স, আল-হাজ টেক্সটাইল মিলস, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফ্যামিলিটেক্স, ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস, তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, আইএফআইসি ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড। দেশের আরেক পুঁজিবাজার সিএসইতে গেল সপ্তাহে সিএসসিএক্স সূচক ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ২৬৬ পয়েন্ট। নির্বাচিত ৩০ কোম্পানির সূচক সিএসই ৩০ ইনডেক্স ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১১ হাজার ৭৩৮ পয়েন্টে। সিএসইতে পাঁচ কার্যদিবসের লেনদেনে মোট ১৩৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৬৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ৩১৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৩টির, কমেছে ১৪৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির বাজার দর।