অবশেষে গুলিবিদ্ধ কিশোরী লামিয়ার অস্ত্রোপচার

অবশেষে ৭০ ঘণ্টা পর খুলনায় বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লামিয়ার অস্ত্রোপচার হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে এ অস্ত্রোপচার করা হয়।

এর আগে ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ঠিকাদার শেখ ইউসুফ আলীর লাইসেন্সকৃত বন্দুকের গুলিতে লামিয়ার আহত হন। লামিয়া মহানগরীর আরাফাত জামে মসজিদ এলাকার জামাল হোসেনের মেয়ে। তিনি ইকবালনগর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

খুমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৩০ আগস্ট লামিয়ার থ্রি-ডি সিটি স্ক্যান এবং হাই আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুমেকের উপাধ্যক্ষ ও অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধান ডা. মেহেদী নেওয়াজের নেতৃত্বে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের একটি দল লামিয়ার অস্ত্রোপচার শুরু আজ সকাল ৯টায়। এই অস্ত্রোপচারের সময় লাগে দেড় ঘণ্টা।

অস্ত্রোপচার শেষে ডা. মেহেদী নেওয়াজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অস্ত্রোপচারে সফল হয়েছে। অস্ত্রোপচারে দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। গুলি বের করা হয়েছে। গুলি আলামত হিসেবে পুলিশ নিয়ে গেছে। গুলিটা খুব জটিল জায়গায় ছিল হাড়ের মধ্যে। হাড় কেটে গুলিটি বের করতে হয়েছে। সে এখন আশঙ্কা মুক্ত, দ্রুত সুস্থ হবে আশা করছি।’

উল্লেখ্য, ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঠিকাদার শেখ ইউসুফ আলীর বাড়ি গিয়েছিলেন তার মেয়ের প্রেমিক ও প্রেমিকের বন্ধুরা। তাদের পরিচয় পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দেন ঠিকাদার।

পরিস্থিতি খারাপ বুঝে বাড়ির লোকেরা তাদের বের হয়ে যেতে বলেন। তারা বের হতে না হতেই পিস্তল হাতে বেরিয়ে পড়েন ঠিকাদার। পরে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

গুলির শব্দ শুনে পাশের বাড়ির স্কুলপড়ুয়া লামিয়া কৌতুহলবশত ঠিকাদারের বাড়ির সামনে আসে। এ সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে একটি গুলি বিদ্ধ হয় লামিয়ার বাম পায়ে।