দু’দশক ধরে পরিদর্শন আর আশ্বাসে আটকে আছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙনরোধের কাজ। এতে দীর্ঘ বেলাভূমি প্রতি বছর প্রশস্ততা হারাতে হারাতে হচ্ছে সংকুচিত। সাগরে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন স্থাপনা। বেলাভূমিজুড়ে বিশাল সবুজ বেষ্টনী হচ্ছে উজাড়।
এখনই স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলা না হলে জৌলুশ হারিয়ে শ্রীহীন কুয়াকাটা হারাতে পারে পর্যটকদের আকর্ষণ। বিনিয়োগকারীসহ ব্যবসায়ীদের শঙ্কা, স্থায়ী উদ্যোগ না নিলে হুমকির মুখে পড়বে কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ।
বৈশ্বিক উষ্ণতাজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র স্রোতের গতিধারা বদলে গেছে। ফলে গত দু’দশক ধরে তীব্র স্রোত আর উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে অব্যাহত বালুক্ষয়ে কুয়াকাটা সৈকত হারিয়েছে অন্তত চার কিলোমিটার প্রশস্ততা। সাগরে বিলীন হয়েছে নারিকেল বাগান, ঝাউ বাগান, ইকোপার্ক, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনীসহ কয়েকশ স্থাপনা।
সম্প্রতি অমাবস্যা জো’য়ের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারে উত্তাল ঢেউয়ের তা-বে সৈকতের প্রশস্ততা হয়েছে আরও সংকুচিত। সাগরে বিলীন হয়েছে বেলাভূমির সবুজ বেষ্টনী, ঝাউ বাগান, ইকোপার্কসহ বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভাসিয়ে নিয়ে গেছে কয়েকশ ভাসমান দোকান। ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতটজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এর ক্ষতচিহ্ন।
যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে কেন্দ্রীয় ঘাটলা মসজিদ, মাদ্রাসা, রাধাকৃষ্ণ সেবাশ্রম, ট্যুরিজম পার্ক, দুই শতাধিক স্থাপনা, সবুজ বনভূমির অবশিষ্টাংশ, অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, শুঁটকি ও ঝিনুক মার্কেটসহ বহুমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হুমকির মুখে রয়েছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের চলমান উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ।
স্থানীয়রাসহ ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে বাড়ে ভাঙনের তীব্রতা। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিজম বোর্ডসহ জনপ্রশাসনের ঊর্ধ্বতনরা এ সময় পরিদর্শনে আসেন। শুধুমাত্র জিরো পয়েন্ট এলাকায় মাত্র কয়েকশ ফুট ভাঙন প্রতিরোধে সাময়িক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লোক দেখানো এসব উদ্যোগ কোনো কাজেই আসছে না।
গণমাধ্যমকর্মী নাসির উদ্দিন বিপ্লব বলেন, পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সমন্বয়হীনতার অভাবে আটকে আছে একনেক থেকে দু’দফা ভাঙন প্রতিরোধের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি। ফলে ২০০৪ সাল থেকে কয়েক দফা সমীক্ষা চালিয়ে আজ পর্যন্ত নির্মাণ হয়নি স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে হুমকির মুখে। বন্ধ হয়ে আছে সব ধরনের বিনিয়োগ। রিয়েল স্টেট ব্যবসা বন্ধ হয়ে আটকে পড়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো. অলিউজ্জামান বলেন, স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য সমীক্ষা শেষে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন পরিদর্শনে এসে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, জিও টেক্সটাইল ব্যাগের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হচ্ছে। একনেকের সভায় পাস হলেই খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।