বিধিনিষেধ-সহ খুলে যাচ্ছে কলকাতার পানশালাগুলো

লকডাউন উঠে যাওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে বেশ কিছু বিধিনিষেধ-সহ চালুর অনুমতি পেল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার পানশালাগুলো।

এত দিন রেস্তোরাঁ খোলায় ছাড়পত্র দেয়া হলেও পানশালা বন্ধই ছিল। তবে কলকাতার করোনা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, পানাহারের পরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিধি মানার ব্যাপারে সচেতন থাকবেন তো সকলে?

অবশ্য বিভিন্ন পানশালা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, স্বাস্থ্য-বিধি মেনেই পরিষেবা দিচ্ছেন তারা। পানশালায় ঢোকার মুখে গেটের সামনেই রাখা হচ্ছে দেহের তাপমাত্রা মাপার থার্মাল গান। মাস্ক পরে স্যানিটাইজারে হাত পরিষ্কার করে নিলে তবেই মিলছে পানশালায় ঢোকার অনুমতি।

ধর্মতলার মেট্রো গলির ভেতরে একটি পানশালা করোনার কারণে বসার ব্যবস্থাই পাল্টে ফেলেছে। সেখানকার কর্মকর্তা উদয় হালদার বলেন, পান-ভোজনের সময়ে যেহেতু মাস্ক পরে থাকা যায় না, তাই একই টেবিলে মুখোমুখি বসা দু’জনের মাঝখানে কাচের দেওয়াল বসানো হয়েছে। আসনসংখ্যা যা ছিল, তার এক-তৃতীয়াংশ করে দিয়েছি আমরা। যারা পরিবেশন করছেন, তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই ফেইস শিল্ড ও মাস্ক পরে থাকাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চাঁদনি চক এলাকার আর একটি পানশালার কর্মী অরুণ রায় বললেন, মাস্ক পরে না এলে আমরা ভিতরে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছি না। প্রতিটি টেবিলেই থাকছে স্যানিটাইজার। বড় দল এলে তাদের জটলা না করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

পার্ক স্ট্রিট এলাকার সব কটি পানশালা না খুললেও বেশ কয়েকটি খুলে গিয়েছে। সেখানকার একটি পানশালার মালিক আনন্দ পুরী বলেন, কেউ যদি চান, তা হলে তিনি বসার আগে টেবিল ক্লথ ও সোফার কভারও বদলে দিতে পারি। মেনু কার্ডও স্পর্শমুক্ত করে ফেলেছি আমরা। কিউ আর কোডের সাহায্যে নিজেদের মোবাইলেই তা দেখে নিতে পারবেন ক্রেতারা।

পার্ক স্ট্রিটের আরেক পানশালার কর্মকর্তা লিওন রোজারিও বলেন, গ্লাস থেকে প্লেট, সবই ‘ডিসপোজিবল’ (এক বার ব্যবহারযোগ্য) করে ফেলা হয়েছে।

কসবার শপিং মলের ভিতরে থাকা আর একটি পানশালার জানিয়েছে, তারা বসার ব্যবস্থাটাই বদলে ফেলেছে। তার জন্য আনা হয়েছে নতুন আসবাব। এ দিন বিকেলে সেখানে এসেছিলেন বালিগঞ্জ এলাকার কয়েক জন যুবক। প্রত্যেকেই সঙ্গে এনেছিলেন স্যানিটাইজার। তারা জানালেন, সুরক্ষা ব্যবস্থা দেখার পরে কিছুটা নিশ্চিন্ত বোধ করছেন। তাদের মতে, পানশালার ভিতরে আসনসংখ্যা আরও কমানো দরকার। তা ছাড়া, পানশালার ভিতরে প্রত্যেকে স্বাস্থ্য-বিধি মানছেন কি না, তা দেখার জন্য আলাদা করে নজরদারির ব্যবস্থা থাকা দরকার। তার জন্য প্রয়োজনে পানশালায় উজ্জ্বল আলো জ্বালানো হোক।

হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সচিব সুদেশ পোদ্দার বলেন, ‘ব্যবসা বন্ধ থাকায় বেশ কিছু পানশালার কর্মীরা কম বেতন পাচ্ছিলেন। এ বার পানশালা খোলায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন।

তিনি জানান, পানশালার কর্মীদের কেউ সুরক্ষা-বিধি না মানলে তাকে কাজ করতে দেওয়া হবে না। যারা পানশালায় পানাহার করতে আসছেন, নিয়ম না মানলে তাদেরও বোঝাতে হবে। তা সত্ত্বেও কেউ বুঝতে না-চাইলে প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নেওয়া হবে।

সূত্র: আনন্দবাজার।