রাজধানীর আয়তনের ৮৩ শতাংশই দালানকোঠা

নগরীতে নগরায়নের প্রভাবে মোট আয়তনের প্রায় ৮৩ শতাংশ দালানকোঠা । আর এই নগরায়নের প্রভাবে জলাশয় ও খোলা জায়গার পরিমাণ কমে দাড়িয়েছে প্রায় ৬ শতাংশের নিচে।

এছাড়া রাজধানীতে অবশিষ্ট সবুজ রয়েছে মাত্র দুই শতাংশ।  সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করেছে   সামাজিক সংগঠন ‘সবুজ আন্দোলন’।

তারা বলছে, গত বিশ বছরে অপরিকল্পিত গৃহনির্মাণের ফলে ঢাকা শহর বসবাসের অনুপযোগী শহরে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা শহরে স্থাপত্য নির্মাণ বৃদ্ধি পেলেও কমেছে জলাশয় ও ফাঁকা জায়গা যা পরিবেশ প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর। 

জরিপমতে, রাজধানীর ৩০৫.৮৭১ বর্গ কিলোমিটারের ১৩৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, রমনা পার্ক, মগবাজার, লালবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বসিলা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, দুয়ারীপাড়া, রাজাবাজার, ইন্দিরা রোড, শেরে বাংলা নগর ও মিরপুর সেনানিবাস এলাকায় সবুজায়নের পরিমাণ চোখে পড়ার মতো।

তাদের মতে, যে কোন শহরকে বসবাসের উপযোগ্য রাখতে মোট ভূমির ১৫-২০ শতাংশ সবুজ ভূমি, ১০-১৫ ভাগ জলাশয় এবং হাঁটা দূরত্ব বজায় রাখতে পার্ক কিংবা খোলা জায়গা আবশ্যক। কিন্তু বর্তমানে রাজধানীতে ৮৩ শতাংশই দালানকোঠা থাকায় মাত্র ২ শতাংশ সবুজ অবশিষ্ট রয়েছে।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা শহরেই তিন লাখের বেশি বিল্ডিং আছে  যার ৫০ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে ছাদ বাগানের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা আর সেখানেই এই সবুজায়ন করে রাজধানীতে সবুজায়নের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, তাছাড়া এই শহরের যত পার্ক, রাস্তার আইলেন কোনো কিছুতেই তেমন কোনো সবুজায়নের ছোঁয়া নেই, এখানেও বৃক্ষ রোপণ করে সবুজায়ন বাড়ানো সম্ভব। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরেকটি ভয়াবহ বিষয় হলো এ শহরের জলাশয় ও খোলা জায়গায় পরিমাণ কমে যাচ্ছে।তবে এর সমাধান একটি, আর তা হলো- খাল উদ্ধার করা। নগরীর যতগুলো খাল রয়েছে সেগুলো যদি উদ্ধার করা হয় তাহলে জলজটের সমাধান হবে পাশাপাশি আমাদের যে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে সে সমস্যারও সমাধান হবে।

তিনি হাতিরঝিলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, আপনি দেখেন হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি খুব জনপ্রিয় হয়েছে কারণ সেখানের পরিবেশটা ভালো। যদি হাতিরঝিলের মত সব জলাশয়ের পরিবেশ ঠিক করা যায় তাহলে সেদিক থেকে যাতায়াত ব্যবস্থার ও উন্নয়ন ঘটবে। 

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজধানীতে আশংকাজনকহারে কমছে খোলা জায়গার পরিমাণ এর পাশাপাশি কমছে সবুজায়ন। আর যে কয়েকটি পার্ক রয়েছে তার মধ্যে কিছু পার্কের পাশে গড়ে উঠছে ময়লার ভাগাড়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্বক ক্ষতি করছে।

তিনি আরও বলেন, খোলা জায়গা আর জলাশয়ের কমার প্রভাব পড়ছে আমাদের জন জীবনে ও। যে অবস্থা চলছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের শান্তিতে নিঃশ্বাস নেওয়া কষ্টকর হবে। জীবনধারণ হবে আরও দূর্বিষহ।