কমান্ডো নিহতের ঘটনায় ভারতীয় গোপন যোদ্ধাবাহিনী প্রকাশ্যে

লাদাখ সীমান্তে ভারতের একজন কমান্ডো নিহতের ঘটনায় দেশটির গোপন একটি অভিজাত যোদ্ধাবাহিনীর বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

রয়টার্স জানায়, তেনজিং নিয়াম নামে নিহত ওই কমান্ডো ভারতের স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের (এসএফএফ) অংশ ছিলেন।

পরিবার ও সরকারি কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সী নিয়াম ভারতে আশ্রয় নেওয়া তিব্বতি পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

ভারতে পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে লাদাখ সীমান্তের প্যাংগং হ্রদের তীরে মাইন বিস্ফোরণে এসএফএফের এ কমান্ডো নিহত হন। এতে অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার রাতে সীমান্তে অমীমাংসিত এলাকা দখল নিয়ে ফের হাতাহাতি জড়ায় ভারত ও চীনের সেনারা। সেসময় পুরোনো একটি মাইনে নিহত হন নিয়াম।

এই ঘটনায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর স্বল্প পরিচিত অভিজাত যোদ্ধা বাহিনী এসএফএফের অস্তিত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে রয়টার্স জানায়।

বাহিনীটির অধিকাংশ সদস্যকেই নেয়া হয়েছে ভারতে আশ্রয় নেওয়া তিব্বতি শরণার্থী পরিবারগুলো থেকে। ১৯৫৯ সালে তিব্বতে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর কয়েক লাখ তিব্বতি পরিবার দালাই লামার সঙ্গে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

এসএফএফ এ কিছু ভারতীয় নাগরিকও আছেন। ১৯৬২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধের পর গোপন এই বাহিনীটি গড়ে তোলা হয়।

বাহিনীটি সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। ভারতীয় দুই কর্মকর্তার হিসাব মতে, বাহিনীটিতে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি সৈন্য আছে।

ভারতীয় সরকারের তিব্বত বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা অমিতাভ মাথুর রয়টার্সকে জানান, ‘সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার ফুট উচ্চতায় যুদ্ধ ও পর্বতারোহণে পারদর্শী এসএফএফ মূলত ক্রাক ফোর্স।’

তিনি বলেন, ‘হিমালয় সীমান্তে যদি তাদের মোতায়েন করা হয়, আমি আশ্চর্য হবো না। উঁচু পর্বতগুলোতে তাদের মোতায়েন করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তারা অত্যন্ত দক্ষ পর্বতারোহী ও ভয়ংকর কমান্ডো।’

এসএফএফ এর বিষয়ে জানতে ভারতের প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো সাড়া দেয়নি বলে রয়টার্স জানায়।

এ ব্যাপারে বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া ছানইং বলেন, ‘তিব্বতিরা ভারতের হয়ে যুদ্ধ করছে কি না, তা তার জানা নেই কিন্তু সাবধান থাকতে হবে।’

প্রসঙ্গত, ভারতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তিব্বতিদের উপস্থিতিকে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের ভৌগলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি হিসেবে মনে করে চীন। তিব্বতের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে আসা আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে ‘বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে দেখে থাকে বেইজিং।