বাজারে এবার মসুর ডালে আগুন

কয়েক মাস ধরে চড়তে থাকা নিত্যপণ্যের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে মসুর ডালের দাম। গত সপ্তাহে পণ্যটির দাম পাইকারিতে কিছুটা বাড়লেও খুচরায় তেমন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে কেজিপ্রতি মসুর ডাল মানভেদে  ১০-৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এ ছাড়া সপ্তাহ ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর দাম কেজিপ্রতি আরও ৫ টাকা বেড়েছে। আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি ও চাল। চিনি ও খোলা সয়াবিন তেলের দামও বাজারভেদে ২-৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর চীন থেকে আমদানিকৃত আদায় কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়ে (পাল্লা ৫ কেজি) ২৪০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহ সংকটের কারণে ভারতে পেঁয়াজের দাম ক্রমেই বেড়ে চলছে। এ কারণে আমদানিতে পণ্যটির দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে যে পেঁয়াজ আছে, সেগুলো অন্তত এক মাস আগের এলসির (ঋণপত্র) হলেও ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর এর প্রভাব পড়েছে দেশি ও আমদানি পেঁয়াজের বাজারে। এ ছাড়া বিশ^বাজারে দাম বাড়ায় খোলা সয়াবিন ও চিনির দাম বেড়েছে। আর ডালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মন্দা আবহাওয়ার কারণে এবার ভারত, নেপাল ও অস্ট্রেলিয়ায় মসুর ডালের ফলন কম হয়েছে। তাই ওই সব দেশের বাজারে পণ্যটির দাম বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি চিকন মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া মোটা মসুর ডালের কেজিও এখন ১০০ টাকার ওপরে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। গতকাল এ পণ্যটি কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ২০০-২৩০ টাকা দরে, যা গত দুদিন আগেও ২৬০ টাকা ছিল। কেজিপ্রতি আলু বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহেও ছিল সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা। চিচিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দলের কেজি বাজার ও মানভেদে ৬০-৭০ টাকা, প্রতি কেজি পেঁপে কিনতে লাগছে ৩৫-৪০ টাকা। পটোল, ঢেঁড়সের কেজি ৫০-৬০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা দরে। বাজারে প্রতি আঁটি পুঁইশাক বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা দরে। পালং, কলমি, কুমড়া শাকের আঁটি বিক্রি হয়েছে ২০-৩০ টাকায়।

বাজারে স্থিতিশীল আছে মাছের দাম। প্রতি কেজি ছোট আকারের রুই-কাতলা বিক্রি হয়েছে ২০০-২৩০ টাকা দরে। আর বড় আকারের রুই-কাতলার দাম পড়ছে ৩৫০-৪০০ টাকা। প্রতি কেজি পাঙাশ ১৪০ টাকা ও তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৪০-১৬০ টাকা দরে। বাজারে কিছুটা চড়া নদীর মাছের দাম। প্রতি ২০টি দেশি কইয়ের দাম পড়ছে ৩৫০-৪০০ টাকা। প্রতি কেজি দেশি শিংয়ের দাম পড়ছে ৫০০-৬০০ টাকা। পাবদা ও বাগদার কেজিও ৫০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

বাজার অনেকটাই চড়া লেয়ার মুরগির দাম। কেজিপ্রতি এই মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা দরে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ২০০-২২০ টাকা। দবে অনেকটা স্বাভাবিক আছে ব্রয়লার মুরগিসহ অন্যান্য মাংসের দাম। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৩০-১৩৫ টাকা, সোনালি ২৪০ টাকা, গরুর মাংস ৫৬০-৬০০ টাকা ও খাসির মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান মনে করছেন, বাজারে সবজির দাম বাড়ার কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তবে অন্য পণ্যগুলোর দাম বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সব মন্ত্রণালয়ের নিজ নিজ জায়গা থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ জরুরি।