লাশের জন্য অপেক্ষায় সারি সারি খাটিয়া

মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৮ জন। দুজন শিশু, মসজিদের মোয়াজ্জিনসহ মৃত্যুর এই মিছিলে শোকাহত গোটা নারায়ণগঞ্জ। লাশের জন্য অপেক্ষায় খাটিয়া এনে অপেক্ষার প্রহর গুনছে তল্লাবাসী।

এদিকে সর্বশেষ ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুসারে ফ্যান বা বাতি জ্বালানোর জন্য সুইচ দেওয়ার পর স্পার্ক করে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। আর তখনই লিকেজ থেকে মসজিদের ভেতর গ্যাস পরিপূর্ণ থাকায় আগুন লেগে যায়। বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এসি। বৈদ্যুতিক ফ্যান দুমড়ে মুচড়ে যায়। নিমেষেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের তল্লা পশ্চিমপাড়া এলাকায় বায়তুছ সালাত জামে মসজিদে হঠাৎ করে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এশার ফরজ নামাজ শেষে সুন্নত ও নফল নামাজ পড়ার সময়টাতেই মসজিদের ভেতর বিস্ফোরণের ঘটনায় ইতিমধ্যে হতাহত হয়েছেন অর্ধশত। 

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মসজিদের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আগুনের তাণ্ডবের চিহ্ন। কতোটা ভয়ংকর বিস্ফোরণের সম্মুখীন হয়েছিলেন নামাজে থাকা মুসল্লিরা, বলে দিচ্ছে পুড়ে যাওয়া জায়নামাজ, ভাঙা কাচ, মসজিদের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন আসবাবপত্র । 

এদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতদেহ আসার খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে পশ্চিম তল্লা এলাকায়। একের পর এক খাটিয়া নিয়ে আসা হয় তল্লা মাঠে। কালো পতাকা টাঙানো হয় এলাকাজুড়ে ।

ফায়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আরেফিন দেশ রূপান্তরকে জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে মসজিদের নিচে গ্যাসের একটি পাইপ রয়েছে। ওই পাইপের লিকেজ দিয়ে মসজিদে গ্যাস জমে যায়। এর মধ্যে এসি চলার কারণে মসজিদের ভেতরে সবগুলো জানালা ও দরজা টাইট করে বন্ধ ছিল। ফলে নির্গত গ্যাস বের হতে পারেনি। বিস্ফোরণের আগে কেউ হয়তো বাতি বা বিদ্যুতের কিছু জ্বালানোর সময়ে স্পার্ক করে। সেই স্পার্ক থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে সেটার কারণে এসি ও বাইরের ট্রান্সফরমারেও আগুন ধরতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি হান্নান মিয়া নিজেও এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তিনি কয়েক দিন আগেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে এ লাইন সংস্কারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিতাস তখন এ কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ার কারণে লাইন মেরামত বা সংস্কার করেনি। ফলে লিকেজ দিয়ে অন্য দিনের মতই গ্যাস জমে যায় মসজিদে। আর এসি চালানোর ফলে বাতাস বের হতে না পারায় গ্যাস জমে যায়। আর সেই থেকেই মূলত দুর্ঘটনা ঘটেছে।