কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে বিআইডব্লিউটিএ এর খননকৃত সকল চ্যানেল নাব্যতা সংকট ও ডsবোচরের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫দিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে থাকা পরিবহনের শ্রমিকেরা।
ফেরি বন্ধ থাকার কারণে উভয় ঘাটে হাজারো যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে ফেরি বন্ধ থাকায় কাঁঠালবাড়ীর ঘাট থেকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে মোটরসাইকেলসহ যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই কাঁঠালবাড়ি - শিমুলিয়া নৌরুটের পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। গত কয়েক দিন ধরে পানি কমায় নৌ চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে জেগে উঠছে অসংখ্য ডুবোচর। ফলে আগেই বন্ধ হয়ে যায় বিকল্প চ্যানেল। দ্রুত পানি কমতে থাকায় একমাত্র লৌহজং টার্নিং চ্যানেলটি ওয়ান ওয়ে হয়ে পড়ে। শুধুমাত্র শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা কয়েকটি ছোট ফেরি দিনে চালু রাখা হলেও গত ৫দিন যাবৎ কোন ফেরি চলাচল করতে পারছে না। বন্ধ হয়ে যাওয়া চ্যানেল চালু করতে বিআইডব্লিউটিএ এর সরকারি ৯টি ড্রেজার দিয়ে দিন রাত করে বালু অপসারণ করা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা।
কাঁঠাল বাড়ি ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে আটকে থাকা কয়েকজন শ্রমিকেরা বলেন, ১০ থেকে ১২ দিন ধরে ট্রাক নিয়ে ঘাটে পড়ে আছি। রাস্তায় এত দিন ধরে খুব কষ্ট করে থাকছি। ঠিকভাবে খাওয়া নেই, ঘুম নেই খুবই সমস্যা। রাস্তায় পড়ে আছি, প্রতিদিন খাওয়া বাবদ যে টাকা খরচ হয় তা কীভাবে পুষিয়ে নিব জানি না। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।
কাঁঠালবাড়ি ঘাটের টার্মিনাল ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় ঘাটে এখনো প্রায় সাড়ে চার শত পণ্যবাহী ট্রাক ঘাটে আটকে আছে। এ ছাড়া ছোট গাড়ি আছে দেড় শতাধিক।
বিআইডব্লিউটিএ এর ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান বলেন, সরকারি ৯টি ড্রেজার দিয়ে দিন রাত করে বালু অপসারণ করা হচ্ছে। মাননীয় নৌ প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এ নৌ রুট পরিদর্শন করেছেন। বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান মহোদয় মাঝে মধ্যে আসছেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। আমরা সকলে মিলে এই নৌরুট চালুর ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি।