বছরে ৬ মাসই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন যে গ্রাম

চট্টগ্রামের আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গহিরা গ্রামটি উপজেলা সদরসহ উপজেলার ১২ ইউনিয়ন থেকে বছরে অন্তত ছয় মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। ওই গ্রামের বারো আউলিয়া অংশে ১ হাজার ৩১০ মিটার বাঁধ ভাঙা থাকায় বছরের পর বছর এ অবস্থা চলে আসছে। ফলে সেখানে গড়ে ওঠেনি তেমন কোনো অবকাঠামো, রাস্তাঘাট। শিক্ষা, চিকিৎসাসেবাসহ প্রায় সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই গ্রামের মানুষ।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বারো আউলিয়ার ওই অংশে সিসি ব্লকসহ বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এ কাজ সম্পন্ন হলে এলাকাবাসীর দুঃখ-দুর্দশা আর থাকবে না।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গহিরা গ্রামের অন্তত ২৬০টি পরিবারের প্রায় ৩ হাজার মানুষের বসবাস। উপজেলা সদর থেকে এই গ্রামের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটারের বেশি। সাগরবেষ্টিত গ্রামটিতে পাকা রাস্তা বলে কিছু নেই। ভাঙাচোরা যেসব কাঁচা রাস্তা রয়েছে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সেগুলো তলিয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শীত-বসন্তে বিলের জমির ওপর দিয়ে চলে কিছুসংখ্যক অটোরিকশা। বাকি ছয় মাস উপজেলা সদরসহ সবগুলো ইউনিয়নের সঙ্গে গ্রামটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। মুমূর্ষু রোগীদের দোলনায় করে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব গহিরা ফকিরহাট ও দোভাষী বাজারে নিয়ে গাড়িতে তুলতে হয়।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, গ্রামটির পশ্চিম পাশে বারো আউলিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ওঠানামার কারণে রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। বারো আউলিয়া থেকে ঘাটকুল, ঘাটকুল থেকে ফকিরহাট এ দুটি কাঁচা রাস্তা জমির সঙ্গে মিশে গেছে। রাস্তা দুটির কয়েক স্থানে পানি থাকায় সেখানে স্থানীয়রা সাঁকো বানিয়ে চলাফেরা করছে।

দক্ষিণ গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমানুল হক বলেন, রাস্তাঘাটের কারণে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে আসতে চান না। বিদ্যালয়টি মেরামতের জন্য দুবার কাজ পেয়েও রাস্তাঘাট খারাপ এ অজুহাতে ঠিকাদার কাজ করেননি।

স্থানীয় আবুল হাসেম বলেন, আমাদের গ্রামে আসার কোনো রাস্তা নেই। আমাদের গ্রামে কেউ আত্মীয়তা করতে চায় না। তাই আমাদের মেয়ে-বোন বা সন্তানদের বিয়ে দিতে কষ্ট হয়।

রায়পুর ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন বলেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে এ গ্রামের মানুষ অরক্ষিত অবস্থায় বসবাস করে আসছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামটির সুরক্ষা বাঁধ। তবে এখন বাঁধের কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড, পওর-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম দাশ বলেন, গহিরা বারো আউলিয়া অংশে ঠিকাদার পুরোদমে কাজ চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সিসি ব্লকের কাজ শেষ। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই বাঁধের কাজ শেষ করা হবে।

এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, গহিরা গ্রামটি উন্নয়নের দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। কীভাবে এই গ্রামের উন্নয়ন করা যায়, সে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হবে।