কুষ্টিয়ায় যুবক হত্যার দায়ে দেবর-ভাবির যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে প্রতিবেশী যুবক রনি (৩০) হত্যা মামলায় দেবর ও ভাবিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- দৌলতপুর উপজেলার হায়দারের চর গ্রামের আলমগীর হোসেনর ছেলে মো. সজিব হোসেন (৩২) এবং তার বড় ভাবি প্রবাসী আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সীমা খাতুন (২৫)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় দৌলতপুর উপজেলার হায়দারের চর গ্রামের নাহারুল ইসলামের ছেলে রনি (৩০) নিজ বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী সোনাইকুন্ডি বাজারে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর ১ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ৩টায় উপজেলার ৬নং চিলমারি ইউনিয়নের উদয়নগরস্থ পদ্মা নদীর চর থেকে রনির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় নিহতের বাবা নাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ৩০/০৯/২০১৮ তারিখে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

সেখানে তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রবাসী আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী সীমা খাতুনের সঙ্গে যুবক রনির সম্পর্ক তৈরি হয় যা দৈহিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়। রনি তাদের দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্কের বিষয়গুলো মোবাইলে ধারণ করে গৃহবধূ সীমা খাতুনকে ব্ল্যাকমেল করে অর্থ হাতিয়ে নিতে থাকে। একপর্যায়ে রনির ডিমান্ড বাড়তে থাকে, এতে ক্ষুব্ধ সীমা খাতুন বিষয়টি তার দেবর সজিব হোসেনকে খুলে বলেন এবং সাহায্য চান। পরে ভাবি-দেবরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে যুবক রনিকে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দৌলতপুর থানার প্রতিবেশী যুবক রনি হত্যা মামলার আসামি সজিব হোসেন ও সীমা খাতুনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে চার্জ গঠনপূর্বক দীর্ঘ সাক্ষ্য শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর সাজার আদেশ দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেন।