দেশে রাজনীতিতে পরিবর্তন জরুরি : ফখরুল

দেশের রাজনীতির পরিবর্তন জরুরি, জনগণের ঘুরে দাঁড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, জনগণের এখন ঘুরে দাঁড়ানো উচিত। সরকারের কাছে জবাব চাওয়া উচিত। সরকারকে বলা উচিতদয়া করে বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষমা দাও, তোমরা চলে যাও এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার ব্যবস্থা করো।

গতকাল সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে এ মহামারীর সময়ে কতগুলো খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। এগুলো কিন্তু ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। যা খুশি তাই করা হচ্ছে। এ কথাগুলো আমাদের নয়। এ কথাগুলো নিরপেক্ষ সংস্থার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে। এ মহামারীতে বাংলাদেশে যতটা দুর্নীতি হয়েছে এমন দুর্নীতি মনে হয় পৃথিবীর কোথাও হয়নি। মিনিমাম যে বিবেক বা মানুষের জন্য যে মিনিমাম ভালোবাসা দরকার সেটা পর্যন্ত তাদের নেই।

তিনি বলেন, এ কভিডের মধ্যেও আমরা আমাদের কাজ করেছি। কাজ করার চেষ্টা করছি। দেশের এ অবস্থা কি শুধু বিএনপির সমস্যা? না, বাংলাদেশের সমস্যা। আপনার অধিকারের যে নিশ্চয়তা, আপনার আদালতের যে স্বাধীনতা এটা কি শুধু আমাদের বিএনপির সমস্যা? এ সমস্যা দেশের সব মানুষের। এই যে আপনাদের প্রেসের কথাই চিন্তা করেন। আপনারা না বললেও তো আমরা জানি। কীভাবে আপনাদের প্রেসকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ঢাকার বাইরে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুরে করোনা টেস্ট বন্ধ করে দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংক্রমণ তথ্য লুকিয়ে লাভ কী? সরকারের ব্যর্থতার কারণে, তাদের উদাসীনতার কারণে কভিড ছড়িয়ে গেছে। এ অবস্থা হলে সরকারের প্রয়োজনটা কী?

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারগুলোকে রাষ্ট্র থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

স্থানীয় সরকারসহ সব উপনির্বাচনে যাবে বিএনপি : বিএনপি মহাসচিব বলেন, সব নির্বাচনেই আমাদের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত ছিল। কভিড ও বন্যার কারণে যশোর ও বগুড়ার দুটি উপনির্বাচনে যোগ দিয়েও পরে আমরা প্রচারে যাইনি, সরে দাঁড়িয়েছি। আমরা উপজেলা নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করব সেই সিদ্ধান্তই আছে।

স্পটে গুলি করার অথরিটি পুলিশকে কে দিয়েছে : টেকনাফে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার বিষয়টা অত্যন্ত বিগ রুটেড। এখানে অনেকগুলো বিষয় সামনে চলে এসেছে। একটা হচ্ছে, স্পটে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং। পুলিশকে এ অথরিটি কে দিয়েছে? এখন পর্যন্ত আমাদের জানা নেই যে, পুলিশ মুহূর্তের মধ্যে কাউকে গুলি করে হত্যা করতে পারে। দুই নাম্বার হচ্ছে যে, হত্যার ইমিউনিটি (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছে কি না। শুধু সিনহা নয়, অবিলম্বে বিচারবহির্ভূত সব হত্যাকা- বন্ধ ও যারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ফের তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সরকারি জমি জোর করে দখল করছে অথবা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে সরকারি দলের লোকরা। উপজেলা কর্মকর্তা হিসেবে ওয়াহিদা বাধা দিয়েছেন বা দেননি যে কারণে তার ওপর এই আক্রমণ হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে ছেড়ে দেওয়া খুবই বিপজ্জনক। এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তদন্ত হওয়া উচিত যাতে করে সঠিক চিত্র বেরিয়ে আসে, প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।