এই দিনে

বিপ্লবী ও ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কর্মী বাঘা যতীনের জন্ম কুষ্টিয়া জেলার কয়া গ্রামে ৭ ডিসেম্বর ১৮৭৯ সালে। তার প্রকৃত নাম যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। তিনি কোনো অস্ত্রের সাহায্য ছাড়াই খালি হাতে বাঘ হত্যা করলে তাকে বাঘা যতীন নামে অভিহিত করা হয়। এন্ট্রান্স পরীক্ষা পাস করার পর তিনি সাঁটলিপি ও টাইপ শেখেন এবং বেঙ্গল গভর্নমেন্টের স্টেনোগ্রাফার নিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন শক্ত-সমর্থ ও নির্ভীকচিত্ত যুবক। তার মধ্যে আত্মমর্যাদা ও জাতীয়তাবোধ অত্যন্ত দৃঢ় ছিল। অরবিন্দ ঘোষের সংস্পর্শে এসে তিনি শরীর গঠন আখড়ায় গাছে চড়া, সাঁতার কাটা ও বন্দুক ছোড়ার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯০৮ সালে কয়েকজন বিপ্লবীসহ তাকে আলীপুর ষড়যন্ত্র মামলায় জড়ানো হয়। এ মামলার বিচারে অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হলেও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে হাওড়া-শিবপুর ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হন এবং তার সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের ‘যতীন গ্যাং’ নামে অভিহিত করা হয়। অত্যাচারের শিকার হয়ে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তিনি মামলা থেকে মুক্তি পেলেও তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি ও নরেন সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করেন। তারা দেশপ্রেমিক বিভিন্ন দলকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিকল্পনা করেন। যতীন ও রাসবিহারী বসুকে যথাক্রমে বাংলা ও উত্তর ভারতের নেতা মনোনীত করা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ইউরোপে অবস্থানরত ভারতীয় বিপ্লবীরা ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টি গঠনের উদ্দেশ্যে বার্লিনে সমবেত হন এবং তারা এতে জার্মানির সাহায্য কামনা করলে জার্মান সরকার সম্মত হয়। কলকাতার জার্মান কনসাল জেনারেলের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টি যতীন মুখোপাধ্যায়ের কাছে একজন দূত পাঠান। এর মধ্যে পুলিশ ধানক্ষেতে যতীনের গুপ্ত আশ্রয়ের সন্ধান পায়। ১৯১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক গুলিবিনিময়ের পর দুজন বিপ্লবী আত্মসমর্পণ করেন। পর দিন ১০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে মারা যান যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।