সবার জন্মদিন বিশেষ নয়

গতকাল ছিল মেধাবী অভিনেত্রী বন্যা মির্জার জন্মদিন। এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ

জন্মদিনের উপলব্ধি...

আমি অনেক আগে থেকেই মনে করি, সবার জন্মদিন বিশেষ নয়। রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনের যে মাহাত্ম্য, সেটা নিশ্চয়ই আমার না। তাই সাধারণত জন্মদিন এলে ফোন বন্ধ করে রাখি। আমাকে কেউ জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালে কিছু বিব্রতই লাগে। কিন্তু কাউকে তো বলতে পারি না যে আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাবেন না। তাদের মনে আমাকে নিয়ে যে অনুভূতি সেটি প্রকাশে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার আমার নেই। বিশেষ করে যখন ফেইসবুকের দেয়ালে দেখেছি অনেক প্রিয় মানুষ আমাকে নিয়ে হৃদয় দিয়ে কিছু লিখেছেন তখন সেটা আর শুধু জন্মদিনের শুভেচ্ছার মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। এটা হয়ে যায় তারা আমাকে কীভাবে ভাবছেন সেটার মূল্যায়ন।

শোবিজের মানুষ...

আমি জানি সব পেশাতেই এমন আছে, কিন্তু আমার পেশার মানুষ যে এত ভালো তা আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি। তাদের দেখে আমি সাহস পাই, প্রতিনিয়ত শিখি। শুধু অভিনয়টাকে ভালোবাসে বলে হাজার কটুকথা, সাইবার বুলিং, তোপের মুখে পড়েও সাহসের সঙ্গে তা মোকাবিলা করে তারা। তাদের এই সাহসিকতা, এই সংবেদনশীলতার কাছে আমি বিনম্র। তারা মানসিকভাবে অনেক বড়, আমি তাদের কাছে কিছুই না।

আগুনের দিন শেষ হবে...

সবকিছুর শেষ আছে। এই যে এখন শোবিজে অস্থিরতা, নাটকের মান, সিস্টেম, সম্মানী, প্রকৃত শিল্পীর যথার্থ ব্যবহার না করা অনেক কথাই শোনা যায়। কিন্তু আমি মনে করি, এই আগুনের দিন একদিন শেষ হবে। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি এতটাই আশাবাদী। একে তো করোনার থাবা, তার ওপর একের পর এক কাছের মানুষকে আমরা হারাচ্ছি। তারপরও তো কোনো কিছু থেমে নেই। জীবন থেমে থাকে না। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করেই আমরা টিকে থাকি। করোনার জন্য অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে আমাদের। বিশেষ করে গরিব মানুষ খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তারপরও সব পাশ কাটিয়ে তারা তো বেঁচে আছে। ঘরের মধ্যে তো নিজেকে আবদ্ধ করে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে না। তেমনি শোবিজের বিদ্যমান সমস্যাও আমরা কাটিয়ে উঠব একদিন।

প্রিয়জন হারিয়ে... 

এবার জন্মদিন আমার আছে অন্যরকম অনুভূতির। যখন শুনলাম কে এস ফিরোজ আঙ্কেল মারা গেছেন তখন থেকে আমি স্তব্ধ হয়ে পড়েছি। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক, অ্যাক্টরস ইক্যুইটির উপদেষ্টা। সব সময় পাশে থেকেছেন আমাদের। আমরা কিছুই করতে পারিনি নাট্যাঙ্গনের জন্য, কিন্তু তারা দীর্ঘদিন ধরে নাটককে সমৃদ্ধ করেছেন। আমি সবার জন্য এভাবে বলব না, কিন্তু তিনি সত্যিই ছিলেন একজন মিষ্টভাষী, ভদ্র মানুষ। একটি ধারাবাহিকে দীর্ঘদিন বাবা-মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আমি তাকে আরও কাছের মানুষ হিসেবে ভাবতে শুরু করি। আমি শুধু এটুকু চাই, আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।