ছবি তুলতে বাধা দেওয়ার জের

নারীকে রাস্তায় ফেলে পেটাল যুবলীগ নেতা

বরগুনার তালতলীতে ছবি তুলতে বাধা দেওয়ায় এক নারীকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল মোল্লার বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তা এলাকার ‘মনিকা সাতক্ষীরা’ দধি ঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই ওই নারী বাদী হয়ে তিনজনের নামে মামলা করেছে।

আসামিরা হলো যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লা এবং তার সহযোগী শ্রী সাগর ও সাগর মিয়া। এর মধ্যে প্রধান আসামি শ্রী সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গতকাল সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, তালতলী উপজেলার তেতুঁলবাড়িয়া গ্রামের ওই নারী ব্যক্তিগত কাজে শহরে আসেন। ওই শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তায় মনিকা সাতক্ষীরা দধি ঘরে বসে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার পরিচিত জলিল নামে একজনের সঙ্গে দধি খাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তালতলী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল মোল্লার সহযোগী শ্রী সাগর ও সাগর মিয়া নামে দুটি ছেলে এসে মোবাইলে তাদের ছবি তোলে। ওই সময় ওই নারী ছবি তুলতে নিষেধ করলে ক্ষেপে যায় সাগর ও তার আরেক সহযোগী সাগর মিয়া। একপর্যায় তারা ওই নারীকে দধি ঘরে বসে মারধর শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরই যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লা এসে ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে আসে এবং রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে মারধর করে। এ সময় যুবলীগ নেতার ভয়ে কেউ ওই তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি।

পরে স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে স্থানীয় একজনের সহযোগিতায় ওই নারী থানায় যান। এ ঘটনায় ওই রাতেই রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে তালতলী থানায় শ্রী সাগরকে প্রধান আসামি করে যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লাসহ তিনজনের নামে মামলা করেন। পুলিশ প্রধান আসামি সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল মোল্লা প্রকাশ্যে এক নারীকে রাস্তায় ফেলে মারধর করেছে। যুবলীগ নেতার ভয়ে ওই নারীকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেনি। শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে দেখেছে। এ ঘটনায় তালতলীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তারা আরও বলেন, কামাল মোল্লা তালতলীতে মূর্তিমান আতঙ্ক। সে কাউকে পরোয়া করে না। সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে কামাল মোল্লা জড়িত। তার এমন কর্মকা-ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ওই নারীর পরিচিত জলিল বলেন, আমি আর রোজিনা আপা সাতক্ষীরা দধি ঘরে বসে দধি খাচ্ছিলাম এমন মুহূর্তে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল মোল্লার পালিত সন্ত্রাসী শ্রী সাগর ও সাগর মিয়া নামে দুই বখাটে এসে আমাদের ছবি তুলছিল। তাদের ছবি তুলতে রোজিনা নিষেধ করলেই তারা আপার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরই কামাল মোল্লা এসে রোজিনা আপাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নামিয়ে মারধর করে। শত শত লোক দাঁড়িয়ে দেখলেও যুবলীগ নেতার ভয়ে কেউ তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি।

আহত রোজিনা বলেন, আমি আর আমার পরিচিত জলিল মিয়া সাতক্ষীরা দধি ঘরে বসে দধি খাচ্ছিলাম। এমন মুহূর্তে দুটি ছেলে এসে আমাদের ছবি তুলছিল। আমি এর প্রতিবাদ করলেই আমাকে মারধর শুরু করে। কিছুক্ষণ পর কামাল মোল্লা এসে আমাকে ওই ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে নাস্তায় নামিয়ে মারধর করে। আমি বহু অনুনয় বিনয় করেও কামাল মোল্লার মন গলাতে পারিনি। আমি কী অপরাধ করেছি জানি না। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

তালতলী উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল মোল্লা বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাকে মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে।’ তবে তিনি দুই সাগরের পক্ষ অবলম্বন করে বলেন, ‘এক সাগরের হাতে ব্যান্ডেজ সে কীভাবে ওই নারীকে মারধর করল?’

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা যুবলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, ‘এ বিষয়টি আমি জানি না। অভিযোগ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমার দলের কেউ বদনাম করবে এমন কারও দলে জায়গা হবে না।’  

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রধান আসামি শ্রী সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।