রংপুর বিভাগীয় কমিশনার

ইউএনওকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই হামলা

হত্যার উদ্দেশ্যেই দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর পরিকল্পিত হামলা হয়েছিল বলে ধারণা করছেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঞা। গতকাল বুধবার দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম তার সঙ্গে ছিলেন।

আবদুল ওয়াহাব ভুঞা বলেন, ‘ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আপাতত মনে হচ্ছে যে তাকে (ওয়াহিদা) হয়তোবা একদম মেরে ফেলার জন্যই হামলা করা হয়েছিল, এরকম ধারণা নিচ্ছে সবাই এবং আমারও মনে হয় যে এরকম কিছু একটা হতে পারে। সম্ভাবনা ছিল, যাক আল্লাহর রহমতে সে বেঁচে গেছে।’

ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত চলছে উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘তদন্তের মাধ্যমেই জানা যাবে কার উদ্দেশ্যে, কিসের জন্য দুর্বৃত্তরা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। এটা চূড়ান্তভাবে বলা যাবে তখনই, যখন তদন্ত শেষ হয়। তদন্তকাজ চলছে, আমরা আশাবাদী সত্যিটা বেরিয়ে আসবে এবং দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। আমরা তাদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে সম্ভব হবো।’

বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঞা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের (ভারত-বাংলাদেশ) মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বন্দরের সভাকক্ষে বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি বন্দরের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। বৈঠক শেষে তিনি বন্দরের ভেতরের বিভিন্ন অবকাঠামো ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

ওয়াহিদা হত্যাচেষ্টা মামলায় আ.লীগ নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ : ইউএনও ওয়াহিদা খানম হত্যাচেষ্টার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ময়নুল ইসলাম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তার স্বজনরা। ময়নুল ইসলাম ঘোড়াঘাটের পালশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া এ আওয়ামী লীগ নেতা এলাকায় ময়নুল মাস্টার নামে পরিচিতি। ময়নুলের স্বজনরা বলছেন, গত মঙ্গলবার বিকেলে তাকে স্থানীয় ডুগডুগি বাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে স্থানীয় পুলিশ ময়নুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের কথা অস্বীকার করেছে।

গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পালশা ইউনিয়নের চাটশাল বিলপাড় এলাকায় ময়নুল মাস্টারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ময়নুলের ছোট ভাই মো. মুকুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ডুগডুগি বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন ময়নুল। তারপর অনেক রাত পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেননি তিনি। ময়নুল তার মোবাইল ফোনটিও বাড়িতে রেখে বের হয়েছিলেন।

মুকুল হোসেন বলেন, ‘পরে আমরা জানতে পারি, ডিবি পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে গেছে। এর সত্যতা জানতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।