ফার্স্ট এইড বক্সে কী কী থাকে

প্রতি বছরের মতো এ বছরও সেপ্টেম্বর মাসের ২য় শনিবার ১২ সেপ্টেম্বরকে ফার্স্ট এইড ডে বা প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাজনিত বা অন্য যেকোনো কারণে আরও গুরুতর শারীরিক ক্ষতিগ্রস্তরা ও সংকটাপন্ন হওয়ার হাত থেকে রোগীকে বাঁচাতে প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে। প্রাথমিক চিকিৎসা তথা ফার্স্ট এইডের মূল লক্ষ্যই হলো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপনায় অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুহার হ্রাস করা। প্রাথমিক চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো ফার্স্ট এইড বক্স। পরিস্থিতি অনুযায়ী ফার্স্ট এইড বক্সের উপকরণ ভিন্ন হতে পারে, তবে অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সব বক্সেই প্রায় একই থাকে। এরকম কিছু অতিপ্রয়োজনীয় উপকরণ হলোÑ

গজ ব্যান্ডেজ : খুবই দরকারি একটি উপকরণ যা সিলিন্ডার-রোল আকারে পাওয়া যায়।

তুলা বা কটন : নিরাপত্তার জন্য খোলা তুলার তুলনায় প্যাকেট তুলা ব্যবহারই ভালো।

ক্রেপ ব্যান্ডেজ : হাড় ফেটে গেলে বা কোথাও মচকে গেলে ক্রেপ ব্যান্ডেজ ব্যবহারে ব্যথা কমে আসে।

সার্জিক্যাল ব্যান্ডেজ : সহজেই কোনো ক্ষতের ওপরে এই ব্যান্ডেজ আটকে রাখা যায়। তবে খুব ভালো ব্যান্ডেজ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয় না।

কাঁচি : গজ, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী পরনের কাপড় কাটার জন্য কাঁচি দরকার।

চিমটা বা ফরসেপ : অনেক সময় ক্ষতস্থানে ক্ষুদ্র আঠালো ময়লা থাকে যা তুলা দিয়ে মুছে ফেলা যায় না, আবার পানি দিয়েও পরিষ্কার হয় না। এ ক্ষেত্রে চিমটা কাজে আসতে পারে।

সার্জিক্যাল গ্লাভস : ক্ষতস্থান ময়লা হাত দিয়ে পরিষ্কার করার চেয়ে এটা পরে পরিষ্কার করা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত।

জীবাণুনাশক বা অ্যান্টিসেপটিক: ফার্স্ট এইড বক্সে স্যাভলন বা ডেটল, হেক্সিসলÑ নানা রকম অ্যান্টিসেপটিক রাখতে পারেন। কিছু অ্যান্টিসেপটিক ক্রিমও রাখতে পারেন যা বেশ উপকারী।

ওষুধপথ্য : প্যারাসিটামল, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, ব্যথানাশক ওষুধ, পেট খারাপ, মাথা ঘোরা ও বমির ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন, বার্ন ক্রিম, ব্যথানাশক মলম, অ্যালার্জির ওষুধ ইত্যাদি বক্সে থাকলে বিশেষ মুহূর্তে খুবই কাজে লাগে। এছাড়া পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও বক্সে রাখা যেতে পারে।

থার্মোমিটার : শরীরের তাপমাত্রার পরিমাপ করার জন্য এর বিকল্প নেই। খুব সহজেই এটি দিয়ে জ্বর মাপা যায়।

পালস অক্সিমিটার : করোনা মহামারীতে কারও জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট হলে এটি দিয়ে সহজেই রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা ও হৃৎস্পন্দনের মাত্রা জানা যায়।

গ্লুকোমিটার : কারও রক্তের শর্করা কমে বা বেড়ে গিয়ে তিনি অচেতন হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকর একটি উপকরণ হতে পারে যা দিয়ে রক্তে শর্করার পরিমাপ করা সম্ভব। এছাড়া বক্সে টর্চ, সেফটি পিন, মাইক্রোপোর, দুই-তিন কোনা বড় ও মাঝারি আকারের কাপড় ইত্যাদিও রাখা যায়।