দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর জীবনমানের উন্নতিসহ প্রায় সবক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউজে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একজন লেখক।
নিজেদের পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় (১ লাখ ৪০ হাজার সার্কুলেশন) ইংরেজি দৈনিক দাবি করা সংবাদমাধ্যমটির বিজনেস পেজে শনিবার মতামত হিসেবে লেখাটি প্রকাশ করা হয়েছে।
‘অ্যা স্টোরি অব নেগলেট’ শিরোনামের কলামে মনসুর আহমদ লিখেছেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সামাজিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে উদাহরণ। দুই দশক আগেও যাদের তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো, সেই দেশটি এখন দারিদ্র্য হ্রাস করছে।’
‘বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় পাকিস্তানের চেয়ে বেশি এবং দেশটির অর্থনীতি ভারতের পর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান।’
‘অন্যদিকে গত দুই বছর ধরে আমাদের (পাকিস্তানের) মাথাপিছু আয় কমছে। এমনকি আফগানিস্তানের চেয়েও আমাদের কম।’
শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতির বর্ণনা দিয়ে পাকিস্তানি লেখক এভাবে আফসোস প্রকাশ করেন, ‘এই অঞ্চলে প্রাথমিকে তালিকাভুক্তির হার বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। আর আমাদের সবচেয়ে কম। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের হারও পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি।‘
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পার্থক্য তুলে ধরে লেখক বলেছেন, ‘আমাদের বেশি চিকিৎসক, নার্স এবং ক্লিনিক থাকতে পারে; কিন্তু বাংলাদেশিরা পাকিস্তানিদের চেয়ে গড়ে তিন বছর বেশি বাঁচে।’
‘পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে শিশুমৃত্যু অর্ধেক। আবার বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত দেশ। আর আমরা সেই দুই দেশের একটি, যেখানে এখনো পোলিও আছে। সম্প্রতি নাইজেরিয়াকেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পেলিও মুক্ত ঘোষণা করেছে।’
নারীদের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে লেখাটিতে বলা হয়েছে, ‘এই অঞ্চলের অধিকাংশ দেশের তুলনায় বাংলাদেশ নারীদের উন্নতির জন্য বেশি পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা সফল পরিবার পরিকল্পনা প্রোগ্রামের মাধ্যমে শুধু গর্ভধারণই কমায়নি, নারীদের জীবনমানেও পরিবর্তন এনেছে।’
‘লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পরিকল্পনাকারীরা আন্তরিকতাহীন কাজের মূল্য দিচ্ছে। এই অঞ্চলে আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি হার সবচেয়ে বেশি।’
‘১৯৯০ সালর দিকে টেক্সটাইল ইন্ড্রাসটি চালু করা বাংলাদেশে এখন ৮০ শতাংশ কর্মী নারী। এটি তাদের আয় এবং জীবনমান দুটোরই উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের নারীরা এখন পারিবারিক সুস্থতা রক্ষায় এবং সন্তানদের লেখাপড়ায় অনেক অর্থ খরচ করেন। কিন্তু পাকিস্তানে এই চিত্র ঠিক উল্টো।’
বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের প্রশংসা করে কলামের শেষে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের মতো যে দেশ দুই দশক আগেও তলাবিহীন ঝুড়ি বলে পরিচিত ছিল তারা প্রমাণ করেছে ব্যাপক উন্নতির জন্য দেরি করা সাজে না। নীতিনির্ধারকদের এমন কমিটমেন্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’