৫ মাস পর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু

প্রায় ৫ মাস পর স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গতকাল শনিবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এখন থেকে ট্রেনের মোট আসনসংখ্যার ২৫ শতাংশ টিকিট যাত্রীরা স্টেশনের কাউন্টার থেকে কিনতে পারবেন। বাকি ২৫ শতাংশ বিক্রি হবে অনলাইনে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ৫০ ভাগ আসন ফাঁকা থাকবে।

ফের কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে যারা নিম্নআয়ের মানুষ ও প্রযুক্তির ব্যবহার করেন না তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেনার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে বলেও মনে করছেন অনেকে।

গতকাল দুপুরে ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশনে দেখা যায়, টিকিট কিনতে আসা যাত্রীরা কাউন্টারের সামনে ভিড় করছেন। কোনো কোনো কাউন্টারে লম্বা লাইন। টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ানো লোকজন সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। টিকিটের জন্য কাউন্টারের মুখে ঠেলাঠেলিও করছিলেন অনেকে। টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মের ভেতর যেতে দিচ্ছেন না রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ফটকের সামনে জীবাণুনাশক স্প্রে থাকলেও সেটা কাউকে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সরকারি নির্দেশনায় অর্ধেক আসন খালি রেখে ট্রেন চালু ও পুরো টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রতিটি ট্রেনে আসনসংখ্যার ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এই ৫০ শতাংশ টিকিটের অর্ধেক অর্থাৎ আসনসংখ্যার ২৫ শতাংশ কাউন্টারের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। তবে টিকিট ইস্যু করার অন্যান্য নিয়ম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বিক্রি হবে না, দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী নেওয়া যাবে না বলেও জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে বিভিন্ন গন্তব্যে সব মিলিয়ে ৬৭ জোড়া, অর্থাৎ ১৩৪টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় সব কটি গন্তব্যের টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়ে গেছে। যে সব ট্রেনের টিকিট অবিক্রীত রয়ে গেছে সেটা কাউন্টারে পাওয়া যাবে। মূলত ২১ তারিখের পরের ২৫ শতাংশ টিকিট যাত্রীরা কাউন্টার থেকে কিনতে পারছেন।