দেশে পরীক্ষার বিপরীতে নতুন করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত কমেছে। তবে রোগীদের মৃত্যু কমছে না। বরং শেষ এক সপ্তাহে আগের সপ্তাহ থেকে প্রায় ৬ শতাংশ মৃত্যু বেশি হয়েছে। গতকাল রবিবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৯০তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৩ হাজার নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৭৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এদিন প্রতি ১০০ পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ দশমিক ৩৫ জন করে, যা গত ১৩২ দিনের মধ্যে বা প্রায় সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সর্বশেষ গত ৪ মে ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তারপর থেকে গতকালেরটাই সর্বনিম্ন শনাক্তের হার। ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার কমতে থাকায় সর্বমোট পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের গড় হারও কমেছে। শনাক্তের গড় হার সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশে উঠেছিল গত ১৮ আগস্ট। তারপর থেকে ক্রমান্বয়ে কমতে কমতে গতকাল তা ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশে নেমেছে।
অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের সপ্তাহের তুলনায় শেষ এক সপ্তাহে (৬-১২ সেপ্টেম্বর) নমুনা পরীক্ষা ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাড়লেও নতুন রোগী শনাক্ত কমেছে ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পাশাপাশি সুস্থ বেড়েছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে শেষ সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। এ সপ্তাহে ২৫৫ রোগী মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে দেশে করোনা রোগী সুস্থ হওয়ার হারও বেড়েছে। বেশ কয়েক দিন ধরে ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্তের চেয়ে বেশিসংখ্যক রোগী সুস্থ হচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও ২ হাজার ৩৭২ রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত সর্বমোট শনাক্ত হওয়া রোগীর মধ্যে ৭১ দশমিক ৩০ ভাগ রোগী সুস্থ হয়েছেন।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সারা দেশে বর্তমানে ৯৪টি পরীক্ষাগারে করোনা পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এ সব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১২ হাজার ৮৫০টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৯৯৯টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৭৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। একই সময়ের মধ্যে আরও ৩১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৩৭২ রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে গতকাল পর্যন্ত সর্বমোট ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৪৮০টি নমুনা পরীক্ষায় মোট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫২০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন মোট ৪ হাজার ৭৩৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৪৩ জন। বাকিরা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ২৫ জন ও নারী ৬ জন। সর্বোচ্চ ১৮ জন ঢাকা বিভাগের, ৫ জন চট্টগ্রাম, ২ জন করে মোট ৬ জন রাজশাহী, সিলেট ও রংপুর বিভাগের। এছাড়া খুলনা ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছেন। মৃতদের ২১ জনই ষাটোর্ধ্ব বয়সের। বাকিদের মধ্যে ৫১-৬০ বছরের ৭, ৪১-৫০ বছরের ২ ও ৩১-৪০ বছরের ছিলেন ১ জন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৮ ও বাড়িতে ৩ জন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৬৮৬ ও নারী ১ হাজার ৪৭ জন। শতকরা হিসেবে পুরুষ ৭৭ দশমিক ৮৮ ও নারী ২২ দশমিক ১২ শতাংশ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৯৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ১, খুলনায় ৪০১, রাজশাহীতে ৩১৯, রংপুরে ২২৫, সিলেটে ২১২, বরিশালে ১৮০ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১০২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরও ২০৮ রোগীকে এবং কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৪০৩ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে মোট ১৮ হাজার ১৩৫ জন ও কোয়ারেন্টাইনে আছে মোট ৪৯ হাজার ৫২৫ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে কল এসেছে ৫৩ হাজার ৫২৩টি। এই সময়ে টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৫ হাজার ১১২ জন। ২৪ ঘণ্টায় স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে দেশে প্রবেশ করেছেন ৩ হাজার ৭৪৭ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
কভিড হাসপাতালে বেড খালি থাকার তথ্য : অধিদপ্তরের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে মোট ৬ হাজার ১০৭টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ১৭৬টি এবং ৩০৮টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১২১টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট ৭৮২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি ৬১২টি এবং ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ২৫টি। এছাড়া দেশের অন্যত্র মোট ৭ হাজার ৩৮৬টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি ৬ হাজার ২৪৬টি ও ২০১টি আইসিইউর মধ্যে খালি ১০৮টি।