অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর করোনায় মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন অভিনেতা সাদেক বাচ্চু (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

সাদেক বাচ্চুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। শোক বার্তায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মঞ্চ থেকে শুরু করে বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গন সাদেক বাচ্চুর শক্তিমান অভিনয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে দেশের অভিনয় জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাদেক বাচ্চুর মরদেহ গতকাল বাদ মাগরিব খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে তালতলা কবরস্থানসংলগ্ন মসজিদে সীমিতসংখ্যক নিকটাত্মীয়ের অংশগ্রহণে জানাজা হয়।

মাল্টি অর্গান ফেইলিয়রে সাদেক বাচ্চুর মৃত্যু হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই ওনার করোনা রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে আমাদের এখানে এসেছেন তিনি। ওনার অক্সিজেনের মাত্রা অস্বাভাবিক ছিল, যার জন্য ভেন্টিলেটর দিতে হয়েছে। পরে মাল্টি অর্গান ফেইলিয়রে ওনার মৃত্যু হয়েছে।’

সাদেক বাচ্চুর বড় মেয়ে সাদিকা ফাইরোজ মেহজাবিন জানান, শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ৬ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তার বাবা। সেখানে নমুনা পরীক্ষায় গত শুক্রবার করোনাভাইরাস ধরা পড়লে শনিবার তাকে ইউনিভার্সাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সাদেক বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি, পথনাটক পরিষদ, মতিঝিল থিয়েটার (সার্কেল), সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, ঝুনা চৌধুরী, চিত্রনায়ক ওমর সানী, শাকিব খান, সিয়াম, আরিফিন শুভ, নায়িকা মাহিয়া মাহি, পূজা চেরী প্রমুখ।

চলচ্চিত্রে সাদেক বাচ্চু হিসেবে পরিচিত হলেও তার নাম মাহবুব আহমেদ। তিনি ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন ও সিনেমায় অভিনয় করেছেন। নব্বইয়ের দশকে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি।

সাদেক বাচ্চু অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’, ‘জীবন নদীর তীরে’, ‘জোর করে ভালোবাসা হয় না’, ‘তোমার মাঝে আমি’, ‘ঢাকা টু বোম্বে’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘এক জবান’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘বধূবরণ’, ‘ময়দান’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘প্রিয়জন’, ‘সুজন সখী’ প্রভৃতি।