চট্টগ্রাম নগরের সম্প্রতি যে সকল থানা এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম-আহ্বায়কগণ মৃত্যুবরণ করেছেন সে সকল থানা এবং ওয়ার্ড সমূহে সভাপতির মৃত্যুতে পরবর্তী ১নং সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুতে ১নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং আহ্বায়কের মৃত্যুতে ক্রমানুসারে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ককে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে পদায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা ওয়ার্ড এবং থানায় প্রেরণ করা হবে।
বুধবার থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের দিনব্যাপী বর্ধিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ সময় চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দলের একের অধিক প্রার্থীদের বিষয়েও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুসরণ করারও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
সভায় এছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের আওতাধীন ১২৯টি ইউনিটে সাংগঠনিক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম এম এ মান্নান এবং ২২ সেপ্টেম্বর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী ইনামুল হক দানুর মৃত্যুুবার্ষিকী পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসাফিরখানা মসজিদে বিকাল ৩টায় খতমে কোরআন, বাদে আছর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দলকে সংগঠিত করার শক্তি অর্জনে তৃণমূলকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল থেকে দলকে সংগঠিত করে আগামী চসিক নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে হবে। নৌকা, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের প্রতীক। এই নৌকা যার হাতে নেত্রী তুলে দিয়েছেন তাকে বিজয়ী করা ছাড়া আমাদের আর কোন বিকল্প নেই।
বর্ধিত সভায় সাংগঠনিক নির্দেশনা উপস্থান করে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের অর্জনগুলো জনগণের ঘরে ঘরে গিয়ে তুলে ধরতে হবে। আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নেত্রী যাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ত্যাগী ও পরীক্ষিত রাজনীতিক। উনি নির্বাচিত হলে নগর উন্নয়নে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পালনে আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ অভিন্ন ও ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে এমন কোন শক্তি নেই আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রাকে রোধ করতে পারে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং নেতাকর্মীদের পারষ্পরিক মতামতের ভিত্তিতে আমরা যে শক্তি অর্জন করেছি তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। আওয়ামী লীগের ঐক্যের ভিতকে আরও মজবুত করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।
মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ, দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড সভাপতি পেয়ার মোহাম্মদ, পশ্চিম মাদারবাড়ী ওয়ার্ড সভাপতি হাজী আলী বক্স, উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের সভাপতি আবদুল হান্নান, দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের সভাপতি অধ্যাপক মো. ইসমাইল, শুলকবহর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শেখ সরওয়ার্দী, জামালখান ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিথুন বড়ুয়া, চান্দগাঁও ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন নিজু প্রমুখ।
সভায় নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চসিকের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. খোরশেদ আলম সুজনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।