সেতুর সংযোগ সড়কে ধস ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বছিরবানিয়ায় ‘৫১ ছোট যমুনা নদী’র ওপর ২০ গ্রামের জন্য নির্মিত বেইলি সেতুর দুদিকের সড়ক ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে।

স্থানীয়রা জানায়, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। রাতে সেতুর আশপাশে বাতি বা আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে ভেঙে যাওয়া অংশের ভেতর পড়ে যান। এরপরও অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল ও রিকশা-ভ্যানের মতো হালকা যানবাহন চলাচল করছে। বন্ধ হয়ে গেছে ভারী যানবাহন চলাচল। এলাকাবাসী জানায়, সেতুর দক্ষিণে রয়েছে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেগুলোতে রয়েছে প্রায় হাজারো শিক্ষার্থী।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিন ৫১ ছোট যমুনা ওপর বেইলি সেতু এলাকায় দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ঝুঁকি নিয়ে চলাচলকারীরা। বছিরবানিয়া বাজার ও যশাই হয়ে আমবাড়ী যাতায়াতের জন্য এ সড়কটি ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলাউদ্দীন আলাল বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মৌসুমি শাকসবজিসহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি এ সড়কে পরিবহনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদকর্মী খালেকুল জামাল বলেন, সেতুর পাশেই একটি বড় বাজার আছে, এ সেতু দিয়ে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ হাটে কেনাবেচা করার জন্য আসে, যেকোনো সময় এর সঙ্গে সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে।

৭নং ওয়ার্ড সদস্য মিনহাজুল ইসলাম বলেন, সেতুর বিষয়ে ইউএনওকে জানিয়ে কোনো ফল হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে নিজ অর্থে আগের ভেঙে যাওয়া গর্তগুলো ভরাট করেছি। এখন বিশাল অংশ ভেঙে যাওয়ায় নিজে আর পারছি না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

চন্ডিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান সরকার বলেন, পাকিস্তান আমলে তৈরি এ বেইলি সেতু। প্রবল বৃষ্টিপাতে সেতুর দক্ষিণে মূল সেতুর দুই পাশে ভেঙে সড়কের ইট খোয়া পিচ বালু সবকিছুই এখন নদীর পানিতে। বৃষ্টিপাতে সেতুর উত্তর পাশে মূল সেতুসংলগ্ন সড়কে দেখা দিয়েছে ভাঙন। একটি অংশ এর মধ্যে ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এ অবস্থার উন্নতি না হলে সেতুতে ওঠার সড়ক পুরোটাই মিশে যাবে নদীতে।