সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে খাদ্যভাতা প্রদান ও ভুয়া নৌযান শ্রমিক সংগঠনের কমিটি বাতিলসহ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে রবিবার সকাল ১০টার দিকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে অবস্থিত বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ও বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামশেদ আহমেদ।
এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মিয়া, বাহার উদ্দিন, আব্বাস মোল্লা, মনিরুল ইসলাম, মো. রুবেল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, আজগর আলী, আজিম উদ্দিন, সবুজ মিয়া, সোহাগ হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বেতন বৃদ্ধি, খাদ্যভাতা প্রদান, বাল্কহেডসহ সকল নৌযানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ২০১৬ সালের ঘোষিত বেতনস্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভারতগামী নৌযান শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাশ প্রদান ও হয়রানি বন্ধ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত নৌযান শ্রমিকদের ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান, নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান, ভুয়া শ্রমিক দিয়ে গঠিত বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ভুয়া কমিটি বাতিল, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নদীর সঠিক নাব্য রক্ষা, মার্কা, বয়া, বাতি প্রয়োজন অনুযায়ী স্থাপনসহ তাদের ১১ দফা চুক্তি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নৌযান মালিকদের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে তারা আগামী ৩ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে দেশব্যাপী লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন শুরু করতে বাধ্য হবেন।
এ জন্য সকল নৌযান শ্রমিকদেরও প্রস্তুত থাকতে বলেন।
বক্তারা আরও বলেন, বাঘাবাড়িতে তাদের আন্দোল সংগ্রাম দমাতে একটি মহল অপতৎপরতা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে তারা ভুয়া নৌযান শ্রমিক দিয়ে বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নামের একটি ভুয়া সংগঠন খুলে কমিটি গঠন করেছে।
ওই কমিটির সদস্যদের কেউই নৌযান শ্রমিক নয়। তারা কোনদিনও নৌযান শ্রমিক ছিল না। প্রকৃত নৌযান শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করতে এ ধরণের ভুয়া কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে নৌযান শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও অসোন্তষ বিরাজ করছে।
তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ভুয়া কমিটি বাতিল করতে হবে। তা না হলে যে কোনো সময় দু’পক্ষের মধ্যে হামলা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তা না হলে নৌযান শ্রমিকরা লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবে।