দেশে এখনো বেতের সোফা, চেয়ার, দোলনাসহ নানা ধরনের আসবারপত্রের বেশ কদর রয়েছে। আর এসব পণ্য কুটির শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে। অথচ ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের কাঁচামালের যোগান ঠিক রাখতে এক সময় শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ে সৃজন বাগান করা হয়। কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফাঁকা হচ্ছে শালবনের ভেতরের বেতের বাগান।
রাংটিয়া রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশ, বেত ও মুর্তা বাগার সৃজন প্রকল্পের আওতায় ২০০০-১৪ অর্থ বছরে উপজেলার রাংটিয়া, গজনী ও তাওয়াকুচা বিটের ১৬৩ হেক্টর জমিতে বেত বাগান সৃজন করা হয়।
কিন্তু সম্প্রতি রাংটিয়া, গজনী ও তাওয়াকুচা বিট ঘুরে দেখা যায়, অনেক জায়গায় বেত গাছের ঝোঁপ কেটে নেওয়া হয়েছে। আবার কোনো কোনো জায়গায় বেত গাছ পুড়িয়ে ছাই করা হয়েছে। আর যেগুলো বেতের গাছ রয়েছে সেগুলো অযত্ন ও অবহেলায় টিকে আছে। এগুলোও এখন ধ্বংসের পথে।
স্থানীয়রা জানায়, বন বিভাগ গত ৭/৮ বছর আগে পাহাড়ে বেতের গাছ লাগিয়ে ছিল। কিন্তু লাগানোর কয়েক মাসের মাথায় আগুন দিয়ে পুড়ে বেত বাগান নষ্ট করছে। বনগুলোতে পাতা কুড়াতে গিয়ে অনেকেই বেত গাছগুলো কেটে বাড়িতে নিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে বেতের বাগান। আর ফাঁকা হচ্ছে শাল-গজারির বনের ভেতর।
ঝিনাইগাতীর ছোট গজনী এলাকার বাসিন্দা চন্দন কোচ, মিঠুন কোচসহ অনেকে জানান, আগে অনেক বেতের গাছ ছিল। এখন আর আগের মতো বেতের গাছ নেই সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। পুরো শাল বনের ভেতর এখন ফাঁকা। যদি এসব বেতের গাছ রক্ষা না করা হয় তাহলে ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প হারিয়ে যাবে। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে দাবি জানাই দ্রুত শালবনের ভেতরে বেতের বাগান করে তা যত্ন করে এই শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখুন।
রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা ইলিছুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় প্রতি বছর বন্যহাতির আক্রমণে বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যহাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে, কুটির শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বনের নিরাপত্তার জন্য শালবনের ভেতরে বেত বাগান করা হয়েছিল। কিন্তু অসচেতন মানুষের সৃষ্ট আগুনে বেতের গাছগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবু বন বিভাগের পক্ষ থেকে তা রক্ষার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করা হচ্ছে।