বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে করোনা টিকার চূড়ান্ত পরীক্ষা

বাংলাদেশে শিগগিরই শুরু হচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেকের উদ্ভাবিত করোনা ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ট্রায়াল। আগামী দু’দিনের মধ্যে এ ট্রায়ালের প্রক্রিয়া জানা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব এম এ মান্নান। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে এ তথ্য জানান তিনি।

সিনোভ্যাকের এই ভ্যাকসিন গত জুন মাসে প্রথম দুই ধাপের ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করে। এরপর তৃতীয় ধাপের হিউম্যান ট্রায়াল বাংলাদেশে করার জন্য সরকারের কাছে করা সিনোভ্যাকের আবেদন জুলাই মাসে অনুমোদন করে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘সিনোভ্যাককে আমরা ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছি। তারা অবিলম্বে কাজ শুরু করবে। আইসিডিডিআর-বি’র সঙ্গে মিলে কাজ করবে তারা। আইসিডিডিআর-বি ট্রায়াল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছে। আজ (গতকাল) অথবা আগামীকালের (আজ) মধ্যে মন্ত্রণালয়কে লিখিত চিঠি দেবে সিনোভ্যাক। সেই চিঠিতে ট্রায়ালের সময় জানা যাবে। চিঠিতে ট্রায়াল সংক্রান্ত সব তথ্যের উল্লেখ থাকবে।’

শুধু সিনোভ্যাক নয়, সরকার অন্যান্য কোম্পানির ভ্যাকসিন ট্রায়ালের ওপরও নজর রাখছে বলে জানান স্বাস্থ্য সচিব। তিনি বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সর্বশেষ সংবাদটির ওপরও আমাদের চোখ আছে। আমরা সব খবর রাখছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯টি কোম্পানি এই ভ্যাকসিন আবিষ্কার নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে ৫টি কোম্পানির সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। ভ্যাকসিন যদি আবিষ্কার হয়ে যায়, তাহলে আমরা যাতে দ্রুত আনতে পারি সেজন্য তাৎক্ষণিকভাবে কেনার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভ্যাকসিনের জন্য সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ আছে। যেকোনো সময় চাইলে আমরা যাতে ভ্যাকসিন কিনতে পারি সে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভ্যাকসিন আনতে চাচ্ছি। সে অনুযায়ী আগাম বুকিং দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা করা হবে এবং চিকিৎসকসহ অন্যান্য ফ্রন্টলাইনার ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান সচিব।

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শেষে সিনোভ্যাক জানিয়েছিল, তাদের ভ্যাকসিন দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে সফল হয়েছে। চূড়ান্ত ট্রায়ালে সফলতা এলে বছরে ১০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ট্রায়ালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ৭৪৩ জন স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবী। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ছিলেন ১৪৩ জন আর দ্বিতীয় ধাপে ৬০০ জন। তাদের সবার বয়স ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। এতে ৯০ শতাংশ মানুষের শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।