আফ্রিকার বতসোয়ানায় শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
করোনা পরিস্থিতিতে জুলাইয়ের শুরুতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয় হাতির গণহারে মৃত্যুর এই ‘অভূতপূর্ব’ ঘটনা।
কী কারণে এভাবে হাতিগুলোর মৃত্যু হচ্ছে, সে সম্পর্কে কেউ কোনো ধারণা দিতে পারছিল না তখন। তবে এ রহস্য উদ্ধার করা গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েকশ হাতির মৃত্যুর জন্য পানিতে বিষক্রিয়াকে দায়ী করছেন বতসোয়ানার কর্মকর্তারা।
এক ধরনের আণুবীক্ষণিক শেওলা থেকে এ বিষাক্ত পদার্থের উৎপত্তি বলে তাদের ধারণা।
কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, জিম্বাবুয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ গবেষণাগারে অনুসন্ধান করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আফ্রিকার মোট হাতির এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে মহাদেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ বতসোয়ানায়। মে মাসের শুরুর দিকে হাতির গণ মৃত্যুর বিষয়টি প্রথম নজরে আসে পরিবেশ সংরক্ষণবাদীদের।
তদন্ত করতে গিয়ে এক মাস পর ৩৩০টি হাতির মৃত্যু ঘটনা নিশ্চিত করেন তারা।
তবে এসব হাতির মৃত্যুর জন্য চোরাশিকারীদের দায়ী নয় বলে দাবি করেছেন দেশটির বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তা।
বতসোয়ানার বন্যপ্রাণী ও জাতীয় উদ্যান বিভাগের প্রিন্সিপাল ভেটেরিনারি অফিসার মাদি র্যুবেন বলেন, ‘আমাদের সর্বশেষ পরীক্ষাগুলো সায়ানোব্যাকটেরিয়ার বিষক্রিয়াকে শনাক্ত করেছে এসব হাতির মৃত্যুর জন্য। পানিতে এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে।’
সায়ানোব্যাকটেরিয়া হলো একধরনের বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া, স্থির পানিতে প্রাকৃতিকভাবে যার জন্ম হয়। কখনও কখনও নীল-সবুজ শেওলা হিসেবেও বড় আকারে দেখা যায় এ ব্যাকটেরিয়াকে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানিতে এই সায়ানোব্যাকটেরিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যাকটেরিয়াটি জন্মের জন্য উচ্চ তাপমাত্রার পানি উপযোগী।