২৬ বীমা কোম্পানিকে মূলধন উত্তোলনের শর্ত শিথিল

পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে ন্যূনতম মূলধন উত্তোলনের শর্ত থেকে অব্যাহতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে শর্ত শিথিল করল এসইসি।

চলতি বছরের শুরুতে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা বীমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে আইডিআরএকে নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কিন্তু কোম্পানিগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি ও তালিকাভুক্তিতে ন্যূনতম মূলধন উত্তোলনের শর্ত এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে আইডিআরএ থেকে বীমা কোম্পানিগুলোকে মূলধন উত্তোলনের শর্ত শিথিল করতে এসইসিকে অনুরোধ জানায়।

বর্তমানে সিকিউরিটিজ বিধি অনুযায়ী, স্থির মূল্য পদ্ধতিতে কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজার থেকে ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বীমা কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন কম থাকায় এসইসির বেঁধে দেওয়া পরিমাণের শেয়ার ছাড়তে হলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার আইডিআরএর বেঁধে দেওয়া পরিমাণের চেয়ে কমে যাবে। এ কারণেই আইডিআরএর অনুরোধের প্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন ৩০ কোটি টাকা উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি প্রদান করছে এসইসি। এর ফলে এখন থেকে উক্ত ২৬ বীমা কোম্পানি সর্বনিম্ন ১৫ কোটি টাকা বা তার বেশি পরিমাণের অর্থ পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

এদিকে এসইসি গতকাল মূলধন উত্তোলনের শর্ত থেকে অব্যাহতি দিয়ে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের আইপিওর অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে অভিহিত মূল্যে ১ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এই অর্থে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার ও ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ছাড়াও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছর অনুযায়ী, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২ টাকা ৯২ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ২৪ টাকা ৪২ পয়সা। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।