প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে সফলতার জন্য শুধু আইকিউ থাকলেই চলে না, সঙ্গে প্রয়োজন ইকিউ বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা। অন্যের অনুভূতি বুঝতে পারার ক্ষমতা হলো আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটির অভাবে ব্যক্তির পেশাগত ও পারিবারিক জীবনে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। টিনএজ পেরোনোর আগেই অন্যের অনুভূতি বিষয়ে ধারণা দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের অনুভূতি আরও ভালো করে বুঝতে শেখানোর জন্য অনেক কিছু জানতে হবে। লিখেছেন তানজির আহম্মেদ তুষার
অকৃত্রিম সম্পর্ক তৈরি করুন
সবার আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের একটি অকৃত্রিম ও নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করা জরুরি। এ ধরনের সম্পর্ক তৈরির জন্য যতœশীলতা, সহযোগিতা, উৎসাহদান, স্নেহ, মেনে নেওয়ার মানসিকতার প্রয়োজন এবং মাঝে মাঝে একটু ছাড়ও দিতে হয়। তাকে সহানুভূতি শেখাতে হলে সেও যে ভালোবাসা ও কাজের স্বীকৃতি পায়, তা তাকে বুঝতে দিতে হবে।
অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করুন
আপনার সন্তানের সঙ্গে অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করুন এবং তাদের অনুভূতি বলতে উৎসাহিত করুন। নিজের অনুভূতিগুলো পরিষ্কার না বুঝলে সে অন্যের অনুভূতিও বুঝতে পারবে না। প্রয়োজনে অনুভূতির তালিকা তৈরি করুন। যখন সে বলবে তখন শাসন তো দূরের কথা, কোনো ধরনের সমালোচনাও করবেন না। তার আনন্দে আনন্দিত ও দুঃখে-দুঃখিত হোন। সে কেমন অনুভব করছে মাঝে মাঝে (বারবার নয়) জিজ্ঞাসা করুন। এভাবে বলতে পারেন, ‘আমার মনে হচ্ছে তুমি খুবই অপমানিত বোধ করেছো, তাই না?’ কোন প্রেক্ষাপটে সে এ রকম অনুভূতি অনুভব করল, তা আলোচনা করতে পারেন। একই সঙ্গে রাগ, দুঃখ, হতাশা, আনন্দ ইত্যাদি অনুভূতির সঙ্গে সে কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নিল, তা নিয়ে আলোচনা করুন। কোন ঘটনায় অন্যের অনুভূতিটি কেমন তা জিজ্ঞাসা করুন। সঠিক না মনে হলে বলুন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে সে কিছুটা হতাশ’ বা ‘আমি তার জায়গায় থাকলে আমি খুব দুঃখ পেতাম।’
ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করুন
অনেক বাবা-মা সন্তানকে কখনো বলেননি বা প্রত্যক্ষ আচরণের মাধ্যমে বোঝাননি যে তিনি তার সন্তানকে কত ভালোবাসেন। সত্যিকারের ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করুন এবং অন্যের প্রতিও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করুন। সেটি আপনার সন্তান যখন দেখবে, তখন সেও বিষয়টি শিখবে।
প্রশংসা করতে শেখান
ছোটবেলা থেকে সন্তানকে প্রশংসা করুন এবং অন্যকে প্রশংসা করতে তাকে উৎসাহিত করুন।
যুক্তি দিয়ে বলুন
কোনো আচরণ ভুল মনে হলে কী কারণে সেটা ভুল তা পরিষ্কারভাবে যুক্তি দিয়ে বলুন। সেটা সম্পর্কে পরিষ্কার নিয়ম তৈরি করে বাস্তবায়ন করুন। তা যেন সব সময় ও সবার ক্ষেত্রে একই থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখুন। এর ফলাফল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা দিন। পরবর্তীতে অন্যের অনুভূতি বুঝতে তার সুবিধা হবে।
আদান-প্রদানের রীতি শেখান
আদান-প্রদানের মাধ্যমেই যে একটি সমাজ এগিয়ে চলে, তা তাকে বুঝতে শেখান। অন্যের জন্য ভালো কিছু করার পর অকৃত্রিম ধন্যবাদ পেলে কেমন লাগে তা জিজ্ঞাসা করুন। অন্যের অবস্থানে সে থাকলে তার কাছে কেমন লাগত, সেটা শিখতে সাহায্য করুন।