সেরা হাসপাতালের সেবা নিয়ে এন্তার অভিযোগ

সরকারি বিভিন্ন সূচকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রাজশাহী জেলায় প্রথম ও দেশে ২৬তম সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে। অনলাইন মনিটরিং সিস্টেমের ১৫টি পরিমাপকের (ইন্ডিকেটর) নির্দিষ্ট নম্বর পদ্ধতির মাধ্যমে সম্প্রতি এ স্বীকৃতি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সেবায় বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের বিস্তর অভিযোগ।

সরেজমিন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ হাসপাতালটিতে সেবার মানে অখুশি সাধারণ মানুষ। রাতে এখানে ডাক্তারের দেখা মেলা ভার। দিনে দেখা মিললেও নির্ধারিত সময়ে আসেন না তারা।

রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

গত বুধবার রাত ১টার দিকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো নিরাপত্তা প্রহরী ও ডাক্তার নেই। নার্সরা ঘুমাচ্ছেন। জরুরি হলে রোগীরা গিয়ে ডাকলে তবেই আসেন নার্স বা ওয়ার্ড বয়। ডাক্তার আসেন না।

এ হাসপাতালে ওইদিন সন্ধ্যায় স্বাভাবিকভাবে এক মেয়েসন্তানের জন্ম দেন উপজেলার মহদিপুরের তানজিলা বেগম। তবে এজন্যও তাকে গুনতে হয়েছে ১১শ’ টাকার পরীক্ষা ফি। সেগুলো করতে হয়েছে হাসপাতালে বাইরে থেকে। রোগীর স্বজনরা জানান, বিকেল ৩টার সময় ভর্তি হলেও রাত ৮টা পর্যন্ত কোনো ডাক্তার আসেননি। নার্সরাই দিয়েছেন চিকিৎসা।

রাত ২টার সময় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এনামুল হক নামে গুরুতর অসুস্থ একজনকে। আসার পর তারা দেখেন জরুরি বিভাগ বন্ধ। সেখানে অনেক ডাকাডাকির পর একজন মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট আসেন। হাসপাতালের ট্রলি না থাকায় তাকে ধরাধরি করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সেখানে শুধুমাত্র প্রেসার মেপে ডাক্তার আসার আগেই রাজশাহী মেডিকেলে নিতে অ্যাম্বুলেন্সে কল দিতে বলা হয়। রোগী বের হওয়ার পর আবার জরুরি বিভাগ বন্ধ করে শুয়ে পড়েন হাসপাতালের কর্মচারীরা।

রাত পৌনে ৩টার দিকে স্ত্রী পিনজিরা বেগমকে নিয়ে আসেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ডেকে ডেকে ডাক্তার পাইনি। জরুরি বিভাগে বসা একটি ছেলে ওষুধ লিখে দিয়ে বললÑ ভর্তি হতে হবে না, ওষুধ খাওয়ান ভালো হয়ে যাবে।

পরদিন সকালে দেখা যায়, ল্যাবে টেস্ট করার সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি শুরু হয় বেলা ১১টায়। আবার শেষ হয়ে যায় দুপুর ১টায়। এছাড়া বহির্বিভাগে একই সময়ে ডাক্তার বসার কথা থাকলেও দেখা যায় তারা চিকিৎসা শুরু করেন সকাল সাড়ে ৯টায়। কাউন্টারে টিকিট বিক্রিও শুরু হয় ৯টায়। অফিস প্রধান চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমানকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি অফিসে। পরে  মোবাইলে স্বাস্থ্যসেবার মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের রাজশাহীর সেরা করা হয়েছে কয়েকটি সূচকে। এগুলো মন্ত্রণালয় থেকে হয়েছে।

জেলার সেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার এ অবস্থার বিষয়ে রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এসব বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।