টানা ছয় দিনের বর্ষণে ঠাকুরগাঁওয়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, আমন ধান ও সবজি ক্ষেত। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের স্থানান্তর করা হয়েছে পাশর্^বর্তী স্কুল ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে। তবে তাদের খাবার ও সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে রানীশংকৈলে দুজন এবং সদরে মাটির ঘরচাপা পড়ে একজন মারা গেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজামান সেলিম বজ্রপাত ও ঘরচাপায় তিনজনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্ষণে নিচু এলাকা ডুবে গেছে। বাড়িঘর ডুবে যাওয়া পরিবারগুলোকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে মাটির ঘর ভেঙে সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামে মতিউর রহমান (৬০) নামে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হন। তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসাতালে নেওয়ার পর বিকেলে মারা যান।
এছাড়া, বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে বিলে মাছ ধরার সময় রানীশংকৈলের দুর্লভপুর গ্রামের নাসিরুল ইসলামের ছেলে রনি (১০) ও আবুল কালামের ছেলে আলিম (২৫) প্রাণ হারিয়েছেন বজ্রপাতে।
জেলা প্রশাসন আরও জানায়, বর্ষণে ঠাকুরগাঁও শহরের কলেজপাড়া, আদমনগর, ডিসি বস্তি, হঠাৎ বস্তি, খালপাড়া, টিকাপাড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। শহরের টাঙ্গন, শুক, সেনুয়া নদীর পানি বিপদসীমার খুব কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অপরদিকে, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে মুক্তা বেগম (১৩) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে ভবদেরপাড়া এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। মুক্তা একই ইউনিয়নের ভুলিপাড়া গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে এবং এলাকার রানী খং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।