চুপ কেন থাই রাজা

থাইল্যান্ডের ঐতিহ্য ভেঙে দেশটির জনগণ রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই টানা আন্দোলন চলছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে। জনগণ দেশটির বর্তমান রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন এবং দেশটির বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। বর্তমান রাজা ভাজিরালংকর্ন ২০১৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর এবারই সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে মত বিশ্লেষকদের।

রাজা ভাজিরালংকর্নের অধিকাংশ সময়ই কাটে জার্মানিতে। কেন তিনি সেখানে দীর্ঘ সময় কাটান তার কোনো ব্যাখ্যা কারও জানা নেই। তবে পাপারাজ্জিদের তোলা বিভিন্ন এসব ছবিতে রাজা এবং তার হেরেমের সদস্যদের কিছু বিষয় হয়তো প্রকাশ পায় তবে অধিকাংশই থাকে গোপনীয়তায় ঢাকা। থাইল্যান্ডের রাজপরিবার অতি ধনী; অঢেল সম্পদের মালিকানা রয়েছে এ পরিবারের হাতে। দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে রাজপরিবারের অবস্থান। শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং দেশটির এলিট শ্রেণির ধনকুবেরদের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের দেশ থাইল্যান্ডে রাজা, রানী, তাদের পরিবারের সদস্যদের সমালোচনা বা অপমানজনক কিছু বললে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগের বিধান রয়েছে। অনেক রক্ষণশীল দেশটির রাজতন্ত্রকে অলঙ্ঘনীয় হিসেবে দেখে থাকেন। গত জুলাই থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। তবে গত ১৯ এবং ২০ সেপ্টেম্বরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হাজার হাজার সাধারণ মানুষও রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা দেখিয়েছে যে, তারা প্রায়ুত চান ওচা সরকারের কতটা বিরোধী। এ বিক্ষোভ থেকে থাই সরকারের প্রতি জনসাধারণের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। রাজধানী ব্যাংকক থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে থাই সরকারের পদত্যাগের পাশাপাশি সংসদ ভেঙে দেওয়ারও দাবি ওঠে।

বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছে। তারা চায় সংসদ ভেঙে দেওয়া হোক, সরকারের সমালোচকদের হয়রানির অবসান এবং সেনাবাহিনীর তৈরি সংবিধানে সংশোধন আনা। সমালোচকরা বলছেন, সেনাসমর্থিত এ সংবিধানেই গত বছরের নির্বাচনে প্রায়ুত চান ওচার দলের জয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। ১৯৩২ সালে দেশটির একটি রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের মুখে রাজশাসনের অবসান ঘটে। সেই দলটির কথা উল্লেখ করে বিক্ষোভকারীরা একটি ব্যানারে লিখেছে, জনগণের পার্টি মরে যায়নি।

রাজতন্ত্রের সমালোচনা করে ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলতে দেশটির রাজনীতিকদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান ওচা। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির একটি বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর এ ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখে সেই সময় দেশটিতে তরুণদের মাঝে ব্যাপক সমর্থন পায় দলটি।