নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় নুসরাত ইমরোজ লিজা (২০) নামে মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে রায়পুরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেরাতলী গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
লিজা ওই গ্রামের মো. আসাদুজ্জামানের মেয়ে এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের (কুমেক) নার্সিং বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
লিজার ফেইসবুক পোস্ট দেখে স্বজন ও পুলিশ ধারণা করছে, প্রেমঘটিত কারণে লিজা আত্মহত্যা করেছেন।
লিজার বাবা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পারিবারিক দাওয়াতে সোমবার আমরা বড় ভাইয়ের বাড়িতে যায়। সবাইকে রেখে আগে বাড়ি চলে আসে লিজা। পরে আমরা বাড়ি ফিরে তার ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ দেখতে পাই। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া পাইনি। ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে দরজা খুলে গেলে ফ্যানের সঙ্গে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিজার ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টের বিষয়ে আমরা আগে জানতাম না। তার মৃত্যুর পর ছোট মেয়ে কান্নাকাটি করার সময় বলেছে- সৈকত নামে একটি ছেলের কারণে তার আপু গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’
লিজা সোমবার তার ফেইসবুকে দেওয়া দুটি পোস্টে মৃত্যুর জন্য সৈকতকে দায়ী করেছেন। সৈকত ঢাকার মিরপুরে জাপান-বাংলাদেশ নার্সিং ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মিরপুরে থাকাকালীন তার সঙ্গে লিজার পরিচয় হয়। কুমিল্লা মেডিকেলে ভর্তির পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন লিজার ছোট ভাই আলামিন।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক ওয়াহাব মিয়া জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রেমঘটিত কারণে লিজা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেছে। নিহতের পরিবার এখনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।