নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের মধ্যে নির্ধারিত তিনটি বিতর্কের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফক্স নিউজের ক্রিস ওয়ালেসের সঞ্চালনায় ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালের দিকে) অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে করোনা মহামারি, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ, অর্থনীতি ও জাতিগত বিদ্বেষসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ক্লিভল্যান্ডের কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিতর্কে নির্বাচনের অখণ্ডতা এবং ট্রাম্প ও বাইডেনের পূর্বের কর্মের বিষয়গুলোও উঠে আসে। কথার লড়াইয়ে একে-অপরকে ঘায়েল করতে ছাড়েননি ট্রাম্প-বাইডেন।
শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের এবং সামরিক দলের নিন্দা করতে ইচ্ছুক কি-না সঞ্চালক ক্রিস ওয়ালেস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। ট্রাম্প বলেন, “আমি প্রায় সবকিছুই বামপন্থী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, ডানপন্থী নয়। আমি যেকোনো কিছু করতে রাজি আছি। আমি শান্তি চাই।”
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মন জয় করার জন্য বক্তব্য দিয়েছেন। বাইডেন ঠাট্টা করে প্রশ্ন তুলেছেন- “এই লোকটি আফ্রিকান আমেরিকানদের রক্ষাকর্তা? এই লোকটি কার্যত কিছুই করেনি। বাইডেন বলেন যে প্রতি ১০০০ আফ্রিকান আমেরিকানদের মধ্যে ১ জন করোনাভাইরাসের কারণে মারা গেছেন, এবং যদি ট্রাম্প দ্রুত কিছু না করেন, তাহলে তা হবে ৫০০ জনের মধ্যে ১ জন।”
১৯৯৪ সালে পাস করা একটি অপরাধ বিলের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প করোনাভাইরাসের থেকে আলোচনা ঘুরিয়ে দেন। বিলটি বাইডেন লিখতে এবং পাস করতে সাহায্য করেছিলেন। যার কারণে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, মাদক অপরাধের জরিমানা বৃদ্ধি করা হয়।
ট্রাম্প বলেন, “আমি এখন মানুষকে জেল থেকে মুক্ত করে দিচ্ছি" এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বাইডেন কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের প্রতি এ দেশের অন্যদের চাইতে অনেক খারাপ আচরণ করেছেন।
বিতর্কের সময় চীনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন বাইডেন। জবাবে ট্রাম্প সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের ছেলে হান্টার বাইডেনের বিদেশে কর্মরত সম্পর্কের বিষয়টি তুলে আনেন।
ট্রাম্প বলেন, হান্টার বাইডেন চীন এবং অন্যান্য বিদেশি স্বার্থ থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার মুনাফা অর্জন করেছে, যে অভিযোগ বারবার অস্বীকার করা হয়েছে।
বাইডেন পাল্টা জবাব দেন, “এগুলোর কোনোটাই সত্য নয়।”
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কবে তার ব্যক্তিগত কর প্রদানের বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন তা বলতে চাননি।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট বিতর্কের সময় ট্রাম্পকে বিশেষভাবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় যে তিনি প্রতি বছর ব্যক্তিগত আয়কর মাত্র ৭৫০ ডলার প্রদান করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে ট্রাম্প ছাড়া সকল প্রেসিডেন্ট তাদের কর প্রকাশ্যে প্রকাশ করেছে।
ডেমোক্র্যাট মনোনীত প্রার্থী জো বাইডেন দ্রুত এই বিষয়টিকে আক্রমণের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করে বলেন যে ট্রাম্প ‘ট্যাক্স কোডের সুযোগ নেন’ এবং ‘একজন স্কুলশিক্ষকের চেয়ে কমকর প্রদান করেন’।
ট্রাম্প এর জবাবে বলেন যে সকল ব্যবসায়ী নেতারা একই কাজ করেন. ‘যদি না তারা নির্বোধ হয়’।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন ক্লিভল্যান্ডে তাদের প্রথম প্রেসিডেন্ট বিতর্কের সময় ব্যাপকভাবে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করেছেন।
ট্রাম্প বলেন তার প্রচারণার র্যালিতে উপস্থিত সমর্থকেরা সামাজিক দূরত্ব বজায় না করার জন্য তার ওপর কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। অবশ্য ট্রাম্প বলেন যে তিনি মনে করেন মাস্কে কোন সমস্যা নেই। পকেট থেকে একটি মাস্ক বের করে বলেন, “যখন প্রয়োজন হয় তখন আমি মাস্ক পরি।”
ট্রাম্প তার প্রচারণার র্যালিতে "৩৫ থেকে ৪০,০০০ লোকের উপস্থিতি সম্পর্কে বলেন, “মানুষ আমার কথা শুনতে চায়।”
সাবেক রিপাবলিকান হারমান কেইন, যিনি মাস্ক বা সামাজিক দূরত্ব বজায় ছাড়াই জুন মাসে ট্রাম্পের একটি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, তার নয় দিন পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং এক মাস পর মারা যান। ট্রাম্প বা বাইডেন কেউই তার নাম উল্লেখ করেননি।
করোনা মহামারী মোকাবিলার ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে ‘সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে বাইডেন বলেন, প্রেসিডেন্ট ‘এ ব্যাপারে বোকা’ এবং তিনি বলেন যে ট্রাম্প শুধুমাত্র তার নিজের স্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে মাস্ক নিয়ে চিন্তিত, অন্যদের জন্য নয়।
সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে আলোচনা দ্রুত কভিড-১৯ এ পরিণত হলে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন যে বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলে ২০ লাখ লোক মারা যেত।
এরপর ট্রাম্পকে সঞ্চালক জিজ্ঞেস করেন যে সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্য সেবা আইন প্রতিস্থাপনের কোনো পরিকল্পনা তার আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা "নির্বাচনে জিতেছে এবং তাই আমাদের অধিকার আছে" প্রয়াত বিচারপতি রুথ বদর গিন্সবার্গের পদে এমি কনি ব্যারেটকে স্থলাভিষিক্ত করার।