গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানি বৃদ্ধি

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধায় চলতি বছর চতুর্থ দফার বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দুই উপজেলার মানুষ। করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বাড়লেও কমছে ব্রহ্মপুত্র নদ ও তিস্তা নদীর পানি।

এদিকে সোমবার রাতে করতোয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে আরও কয়েকটি ইউনিয়ন।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার দেড় হাজার পরিবারের সাত হাজার ৫০০ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে চারটি আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে ৭৫০ জন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় করতোয়া নদীর পানি কাটাখালী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়িঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ও বাঁধ উপচে যাওয়ায় দিন দিন পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় লোকজন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। রাস্তাঘাট ডzবে গেছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরের পশ্চিম চারমাথা এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার অংশ ডুবে গেছে। ফলে যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানিতে ডুবে গেছে গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার কলা, আখ ও রোপা আমনসহ বিভিন্ন শাকসবজি ও ফসলের ক্ষেত। নদীভাঙনের কবলে পড়েছে গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, করতোয়ার পানি বৃহস্পতিবার থামবে। তিস্তা পানি কমতে শুরু করেছে। তবে আরও দু-এক দিন ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘটের পানি বাড়বে।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিস আলী সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন চাল, ৫০ হাজার টাকা ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা বিতরণের কাজ চলছে।