রাজধানীতে পাটকল বেসরকারিকরণের প্রতিবাদ

২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ‘পাটকল বেসরকারিকরণ বিরোধী ছাত্র সংগঠনসমূহ’ ব্যানারে রাজধানীর শাহবাগে বুধবার বিকেলে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবিরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শ্রমিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইকবাল কবীর বলেন, গত ছয় বছরে সরকার রেন্টাল-কুইক রেন্টাল ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। অথচ পাটকলগুলোর সংস্কার করে লাভজনক করার জন্য মাত্র ১২শ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে অপারগতা প্রকাশ করছে। এ থেকে বোঝা যায় সরকার পাটকল রক্ষা করতে চায় না। সরকার যদি বেসরকারিকরণের চক্রান্ত থেকে সরে না আসে তাহলে এর জন্য সরকারকে কঠিন মূল্য দিতে হবে।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন বলেন, ভারতীয় পাট এবং পাটশিল্পের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য দালাল এবং তাঁবেদার সরকার বাংলাদেশের পাটকলগুলো একের পর এক বন্ধ করে দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা সংহতি বক্তব্যে বলেন, সরকার খোঁড়া যুক্তি দিয়ে পাটকল বন্ধ করতে মরিয়া। সরকার পাটকল বা অন্যান্য কারখানায় বিনিয়োগ না করে সাবসিডি দেয়! এই সাবসিডি কারা পায়? মধ্যস্বত্বভোগীরাই এই সাবসিডি পায়, তাতে কারখানার কোনো উন্নতি হয় না।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়ের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা, জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক শামীম ইমাম, বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া, শ্রমিকনেতা বিপ্লব ভট্টাচার্য, মুক্তি ফোরামের অনুপম দেবাশীষ রায়, গণসংস্কৃতি ফ্রন্টের আমীরুন নুজহাত মনীষা প্রমুখ।