গণহত্যার হাজার বছর পর মিলল কবর না পাওয়া লাশ

লৌহ যুগে সংগঠিত একটি গণহত্যার প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এক প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞের শিকার ব্যক্তি ও ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে।

সিএনএন জানায়, উত্তর স্পেনের বাস্ক প্রদেশের প্রাচীন শহর লা হোয়া ১৯৩৫ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয়, খোঁড়া হয় ১৯৭৩ সালে। ৩৫০ থেকে ২০০ খ্রিষ্টপূর্ব সালের মধ্যে শহরটি ধ্বংস হয়।

গণহত্যার পর শহরটি কখনো মূল বাসিন্দাদের হাতে ফেরত যায়নি। আক্রমণে যারা মারা যায়, সাম্প্রতিক খনন কার্য পর্যন্ত তারা ওভাবেই পড়ে ছিল।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও স্পেনের একদল গবেষক ইতিমধ্যে ১৩টি কঙ্কাল পুনরুদ্ধার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, গবেষণা থেকে আক্রমণের পুরো ঘটনাটি উঠে আসবে।

মৃতের তালিকায় নারী-পুরুষ বা শিশু কেউ-ই বাদ পড়েনি। গবেষক দলের প্রধান তেরেসা ফার্নান্দেজ-ক্রিসপো বলেন, একজন পুরুষ সামনের দিক থেকে একাধিকবার আঘাত পেয়েছে। বোঝা যাচ্ছে, আক্রমণকারীর মুখোমুখি হয়েছিল। তবে ওই ব্যক্তির খুলি পাওয়া যায়নি। ধারণা করছে, আক্রমণকারীরা তার মাথা স্মারক হিসেবে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার অ্যান্টিকুইটি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়, আরেকজনকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, একজন পুরুষ ও একজন মহিলার হাত কাটা ছিল।

তবে লাশগুলোকে কবর দিতে বা জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য শহরের লোকদের ফিরে আসার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন গবেষকেরা। কিছু লাশ ছিল পুড়িয়ে দেওয়া ভবনে, কিছু রাস্তায় পড়ে ছিল।

আক্রমণকারীরা শহরটি পুরোপুরি ধ্বংস করতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য তাদের। আর বলেন, সামাজিক, বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র ছিল লা হোয়া। আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চল, ভূমধ্যসাগর ও স্পেনের অভ্যন্তর মালভূমি হওয়ায় এটি ছিল কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এলাকা।

গবেষকেরা বলছেন, লা হোয়া হলো লোহা যুগের একমাত্র আইবেরিয়ান সাইট, যার ধ্বংস হতে পারে স্থানীয় সম্প্রদায়ের কারণে। এ অনুসন্ধান প্রমাণ করে, সম্ভবত লৌহ যুগে স্পেনে বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।