পেঁয়াজ রপ্তানি

আগের এলসি জমা দিতে বলেছে ভারত

স্থানীয় বাজারে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। সম্প্রতি ১৪ সেপ্টেম্বরের আগে খোলা এলসিগুলোর সংখ্যা ও পরিমাণ জানতে তা জমা দিতে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের বলেছে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। 

ভারতের রপ্তানিকারক অনিল ঠাকুর বলেন, ভারতের আদালতে সম্প্রতি পেঁয়াজ রপ্তানির বিষয়ে করা একটি রিটের ঘটনায় গত বুধবার দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত বাণিজ্য মহাপরিচালক বিজয় কুমার স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা পেশ করা হয়। নির্দেশনায় পেঁয়াজ রপ্তানির জন্য সব এলসির কপি ভারতের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। সে মোতাবেক আমরা আমদানিকারকদের  এলসির কপি জমা দিয়েছি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এলসির কপিগুলো কেবল এ বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য বিবেচিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। আগামী ৭ অক্টোবর এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে নির্দেশনায় জানিয়েছেন তারা। এতে আশা করা যাচ্ছে, কিছু পেঁয়াজ রপ্তানির বিষয়ে সরকারিভাবে অনুমোদন আসতে পারে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন ও মোজাম হোসেন বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এতে সীমান্তের ওপারে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ পেঁয়াজবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য যে এলসি দেওয়া হয়েছিল, তার কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয় ভারত। এর পাঁচ দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর টেন্ডার সম্পূর্ণ হওয়া ১১টি ট্রাকে ২৪৬ টন পেঁয়াজ গত ১৯ সেপ্টেম্বর রপ্তানি করে ভারত। এসব পেঁয়াজের বেশিরভাগই পচে যাওয়ায় তা ফেলে দিতে হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। গতকাল ভারতীয় রপ্তানিকারকরা আমাদের জানিয়েছেন, আগের এলসির কপিগুলো জমা দিতে বলেছে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যেই রপ্তানিকারকরা সেসব এলসির কপি নির্ধারিত কতৃৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। এতে শুধু আমাদের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের করা এলসির পরিমাণ ৪-৫ হাজার হতে পারে। সব বন্দর মিলিয়ে যার পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২৫ হাজার। রপ্তানিকারকরাও পেঁয়াজ রপ্তানির বিষয়ে আমাদের আশ^স্ত করেছেন। আমরাও আশা করছি ভারত সরকার অনুমতি দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী ৭ অক্টোবর থেকে আবারও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হতে পারে।