ব্যারিকেড ভাঙার প্রতিশ্রুতি আসলামদের

সমন্বয় পরিষদের ২৪ দফা ইশতেহার

গণমানুষের খেলা ফুটবল। যদিও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে গেলে মনে হয় এ যেন জনবিচ্ছিন্ন কোনো করপোরেট অফিস। নিরাপত্তার বিষয়ে বাড়াবাড়ি রকমের কড়াকড়ি। বাফুফে ভবনের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ডিঙিয়ে বড় কর্তাদের দেখা পাওয়া বড্ড কঠিন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা জেলা প্রতিনিধিরা অনেক সময় পান না প্রবেশাধিকার। ক্লাব প্রতিনিধি, সংবাদকর্মীদেরও একই ঝামেলা পোহাতে হয়। এমনকি চিন্তায় অমিল হলে নির্বাহী কমিটির সদস্যদেরও আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বাফুফে ভবনে। বাফুফের আগামীকালের নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই ব্যারিকেড ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন সমর্থিত সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীরা। বাফুফে ভবনকে গণমানুষের করে গড়ে তুলতেই তারা একাট্টা হয়েছেন। নির্বাচনের দুদিন আগে এই পরিষদ দিয়েছে ২৪ দফা ইশতেহার। সভাপতিবিহীন প্যানেলের ১৯ প্রার্থীকেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে একই অনুষ্ঠানে।

নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী থাকলেও সমন্বয় পরিষদ এই পদটি উন্মুক্ত রেখেছে। এই মোর্চার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক তারকা ও সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আসলাম। চারটি সহ-সভাপতি পদের বিপরীতে তাদের তিন প্রার্থী ব্রাদার্স ইউনিয়নের ডিরেক্টর ইন চার্জ মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, পুলিশ ক্লাবের সভাপতি, অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান। ১৫টি নির্বাহী সদস্যপদেই প্রার্থী দিয়েছেন তারা। ফুটবলে পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে এই পরিষদ চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে কাজী সালাউদ্দিন নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদকে। যদিও সভাপতি পদে প্রার্থী না দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তাদের দেওয়া ২৪ দফা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে। এই প্রশ্নের জবাবে ইশতেহার পাঠ করা মহি বলেন, ‘এই ১৯ জনের বাইরে আমাদের আর কোনো প্রার্থী নেই। সভাপতি পদটা আমরা মুক্ত রেখেছি। আমরা যদি নির্বাচিত হতে পারি তবে কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আমাদের থাকবে। সেক্ষেত্রে যে কারও সঙ্গে আমরা কাজ করতে পারব এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারব।’ বাফুফেকে গণমানুষের সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি মহি, ‘তৃণমূলের সংগঠক এবং ক্লাবের কর্মকর্তা সেখানে হাওয়া খেতে যান না। তারা বাফুফে ভবনে যান ফুটবলেরই কোনো কাজ নিয়ে। অথচ তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিচের রিসিপশনে বসিয়ে রেখে বিদায় দেওয়া হয়। নির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আরিফ হোসেন মুনকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমাদের প্যানেল যদি বিজয়ী হয় এক সপ্তাহের মধ্যে সব ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা হবে।’

নির্বাচনের সময় বাদ দিলে জেলা সংগঠকরা বাফুফে ভবনে বরাবরই ব্রাত্য। বাফুফে ভবনে প্রবেশাধিকারের মতো জেলা-বিভাগের ফুটবলও থেকেছে অবহেলিত। জেলাগুলোতে নিয়মিত খেলা না হওয়ায় ফুটবলার সংকটও পৌঁছেছে চরমে। যার কারণে মানসম্মত ফুটবলারের বড্ড অভাব ঘরোয়া ফুটবল ও জাতীয় দলে। ফুটবলের বাস্তবতা নিরিখে সমন্বয় পরিষদ শতভাগ বাস্তবায়নযোগ্য একটি ইশতেহার দেওয়ার দাবি করছে। আসলাম বলেন, ‘আমাদের প্যানেলে প্রত্যেকেই পরীক্ষিত সংগঠক। তাদের হাত দিয়ে আগামী চার বছরে ইশতেহারের শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব। আমরা কোনো অসম্ভব স্বপ্ন দেখাতে চাই না।’

ইশতেহারে তারা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা পুনরুদ্ধারকে মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখিয়েছেন। ২০০৩ সালের পর থেকে যা অধরা। সর্বশেষ চারটি আসরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তাই দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকেই পাখির চোখ করেছেন তারা। এছাড়া আটটি বিভাগের সেরা দল নিয়ে ভারতের আইএসএল-এর আদলে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বাফুফের সব দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ফিফা-এএফসি থেকে প্রাপ্ত অনুদান ও স্পন্সরদের অর্থ সুষ্ঠু ব্যবহার, প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন খাতে খরচ বাড়ানো, প্রতি বছর বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন, আট বিভাগে আটটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, জেলা ও বিভাগে মিনি টার্ফ স্থাপন, জাতীয় দলের জন্য চার, আট, বার বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন, সোহরাওয়ার্দী কাপ ও শের-ই বাংলা কাপ আয়োজন, পেশাদার লিগকে ঢেলে সাজানোর কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে।

নির্বাচনে সালাউদ্দিন নেতৃত্বাধীন প্যানেল দিয়েছিল ৩৬ দফা সম্মিলিত ইশতেহার। এককভাবে সভাপতি নির্বাচন করা শফিকুল ইসলাম মানিকের ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি ছিল ২১টি। আর সমন্বয় পরিষদ দিয়েছে ২৪টি দফা। কাগুজে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজন দক্ষ ২১ সংগঠক। যাদের বেছে নেওয়ার দায়িত্ব ১৩৯ কাউন্সিলরের।