বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতায় কোরিয়ায় ক্রিকেট ছড়াচ্ছেন নাসির

সাত বছর আগেও যে দেশে ক্রিকেট খেলার মাঠ ছিল না, সেই দেশে এখন নিয়মিত চলে ব্যাট-বলের চর্চা। বেসবলে ডুবে থাকা দেশটিতে ক্রিকেট জাগাচ্ছেন পাকিস্তানি প্রবাসী নাসির খান নামের এক ব্যক্তি। আর এ জন্য তিনি ঢাকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন অভিজ্ঞতা নিতে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম ক্রিকেট গ্রাউন্ড তৈরি হয় ২০১৪ সালের এশিয়ান গেমসের সময়। তখনই দেশটির কর্মকর্তারা পিচ-উইকেটের সঙ্গে প্রথম পরিচিত হন।

সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে কোরিয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসির খান দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসক বলেন, ‘‘আমরা প্লাস্টিক ব্যবহার করে পিচ বানিয়েছিলাম। এখানে কারো এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।’

পাকিস্তানি প্রবাসী নাসির দেশটির পুরুষ এবং নারী ক্রিকেট দলের কোচ। দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রিকেট জাগরণে যেকজন মানুষের অবদান, তাদের একজন তিনি।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনচিয়ন সিটি সরকার তাদের সাহায্য করতে আমাকে আমন্ত্রণ জানায়। আমরা আরও অভিজ্ঞতা নিতে সিডনি এবং ঢাকা যাই।’

‘অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানি পিচের নকশা করতে এসেছিল। হুন্দাইয়ের সহযোগিতায় ইনচিয়নের প্রধান স্টেডিয়ামটি তারা বানিয়ে দেয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন যারা নিয়মিত ক্রিকেট চর্চা করছেন তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানি প্রবাসী।

১৯৯০ সালের কথা স্মরণ করে নাসির বলেন, ‘তখন স্থানীয় আটটি দল ছিল। খেলোয়াড়দের অধিকাংশ ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার।’

এরপর ২০০০ সালের দিকে ক্রিকেটে কিছুটা ভাটা পড়ে। অনেক প্রবাসী এক শহর থেকে আরেক শহরে চলে যান। তখন ভেঙে যায় তাদের ক্রিকেট আসর।

নাসির জানালেন, ‘২০০৬ সাল থেকে আবার ক্রিকেট জাগরণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সিলেবাসে ক্রিকেটকে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে যুক্ত করেন। তখন শিক্ষার্থীরা খেলাটার প্রতি আগ্রহ দেখায়।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেট ছড়াতে অবদান রাখছেন জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক সত্যায়ণু শ্রীবাস্তবও। ২০১০ সালে তিনি দেশটিতে প্রথম টেনিস বলের টুর্নামেন্ট আয়োজন করেন।

‘চামড়ার বল খেলতে অনেকেই ভয় পায়। ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে আমি টেনিস বলে আসর শুরু করি। এখন অনেকেই মাঠে আসছেন। আশা করছি কয়েক বছরের মধ্যে এই দেশটিও ক্রিকেট শক্তিতে এগিয়ে যাবে।’